
স্টাফ রিপোর্টারঃ বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশে হামের টিকার কোনো মজুত ছিল না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকা এবং টিকার এই তীব্র সংকটই বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাবের প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। রোববার (১৯ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘হাম ও ডেঙ্গুরোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা’ শীর্ষক জনসচেতনতা সপ্তাহ উদ্বোধন ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে দেশে সর্বশেষ টিকাদান কর্মসূচি হয়েছিল। এরপর ২০২৬ সালে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করার আগপর্যন্ত দীর্ঘ সময় দেশে হামের (মিজেলস) কোনো টিকা দেওয়া হয়নি। পূর্ববর্তী সময়ে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, সরকার গঠনের সময় স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে হামের একটি টিকাতক অবশিষ্ট ছিল না।
হামের বর্তমান প্রকোপ থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে মন্ত্রী আক্রান্তদের দ্রুত আইসোলেশন বা বিচ্ছিন্নকরণ এবং তাদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি মনে করেন, সঠিক সময়ে যথাযথ পুষ্টি ও আইসোলেশন নিশ্চিত করা গেলে এই রোগের বিস্তার অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
সবশেষে, হাম ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কেবল চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এই লক্ষ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ এবং সামাজিক প্রচারণামূলক কার্যক্রম শহরের পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে ড্যাব (ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ)-এর নেতা ও চিকিৎসকদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানান তিনি।