
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন: আজ ৩১ অক্টোবর ২০২৬ রোজ শনিবার রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত গোল্ডেন টিউলিপ দি গ্রান্ডমার্কে জাঁকজমকপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে প্রিজম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৫-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজিত এই সভায় সংস্থার কার্যনির্বাহী কমিটির ও সাধারণ পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে সংস্থার সমসাময়িক অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোকপাত করেন।
বার্ষিক সাধারণ সভায় সংস্থার মহাসচিব খোন্দকার আনিসুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক মন্দার পরও আমাদের জাতীয় অর্থনীতি ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সংস্থায় সদস্যসংখ্যা ৬৮,৬৭৩ জনে উন্নীত হয়েছে এবং রেকর্ড পরিমাণ ৭২৬.৮৭ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯৯.৪২% আদায় হারে ৫৮১.৪৬ কোটি টাকা ঋণ আদায় হয়েছে। সংস্থা সদস্যদের কাছ থেকে ১২২.৬৮ কোটি টাকা সঞ্চয় সংগ্রহ করেছে এবং এ অর্থবছরে উদ্বৃত্ত আয় ৩৩.৪৪ কোটি টাকা ও ক্রমপুঞ্জিভূত আয় ১৮১.২৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে ঋণস্থিতি ৪৬৪.৪৬ কোটি টাকা হলেও আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে এটি ৫০০ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া পরিবেশ সুরক্ষায় ৬টি বিভাগের ২৪টি জেলায় ৮টি প্ল্যান্টের মাধ্যমে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে এ. কে. এম. জহিরুল ইসলাম বলেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের গতিশীলতা ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। মাঠপর্যায়ে সুবিধাভোগী সদস্যদের ইতিবাচক সাড়ার কারণে কিস্তি আদায় ও সঞ্চয় সংগ্রহে রেকর্ড তৈরি হয়েছে এবং Portfolio at Risk (PAR) অনুপাত উল্লেখযোগ্য হারে কমে গ্রহণযোগ্য মানে এসেছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দেশব্যাপী মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের জন্য তিনি সংস্থাকে বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সংস্থার সাধারণ পরিষদের সদস্য ও এগ্রিকালচারাল এডভাইজরী সোসাইটি (আস)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. হারুন-আর-রশিদ জানান, বিদায়ী অর্থবছরে ক্ষুদ্রঋণ এবং মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। দেশে ৪০০৯টি সমিতির মাধ্যমে ৫৮,৬৭৩ জন সদস্য পরিচালিত হচ্ছে। বিদায়ী অর্থবছরে ৭২৬.৮৭ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ ও ১২২.৬৮ কোটি টাকা সঞ্চয় সংগ্রহ করা হয়েছে। ঋণ আদায়ের হার ৯৯.৪২% এবং ক্রমপুঞ্জিত আয় দাঁড়িয়েছে ১৮১.২৭ কোটি টাকায় (উদ্বৃত্ত ৩৩.৪৪ কোটি টাকা)।
৬টি বিভাগের ২৪টি উপজেলার ৩,৫০৭টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। ৮টি প্লান্টের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ১৬.৪ টন বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। এতে আয় ১৮.১৫ কোটি ও ব্যয় ১৭.৮৭ কোটি টাকা (উদ্বৃত্ত ২৮.২৮ লাখ টাকা)। পরিবেশ রক্ষায় মডেল এই কার্যক্রম সারাদেশে সম্প্রসারণ ও সরকারি অনুদানের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রথাগত অলাভজনক ধান চাষ থেকে সরে যশোর, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহের কৃষকরা এখন সবজি, ফল, মৎস্য ও গবাদিপশু পালনের মতো বাণিজ্যিক কৃষির দিকে ঝুঁকছেন। তবে ১৪% থেকে ৩২% পর্যন্ত চড়া সুদের হার বাণিজ্যিক কৃষির প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফসল উৎপাদনে মোট খরচের ৬-১০% এবং মাছ মোটাতাজাকরণে প্রায় ১২% চলে যায় শুধু সুদে। কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে সহজ শর্তে স্বল্প সুদে প্রাতিষ্ঠানিক মূলধন সরবরাহের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।