
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন: ঢাকা থেকে খুলনা অভিমুখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত লংমার্চ ও পথের বিভিন্ন জেলায় পথসভার কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে। যাত্রাপথের প্রায় সব জেলায় পথসভা করার সিদ্ধান্ত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কেবল গোপালগঞ্জ জেলাকে এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। বিষয়টিকে ঘিরে সংবাদ ব্রিফিংয়ের পর থেকে দলটির রাজনৈতিক পরিপক্কতা, ঈমানি শক্তির দাবি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানান প্রশ্ন উঠছে। আজ ৩১ অক্টোবর ২০২৬ রোজ শনিবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার লংমার্চ সফল করতে গোপালগঞ্জবাসীর কাছে দোয়া চান। গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা না করার পেছনে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিবেশ বা উস্কানি এড়ানোর অজুহাত দেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিরোধী দল হিসেবে রাজপথে নিজেদের শক্ত অবস্থানের কথা বললেও গোপালগঞ্জে পথসভা এড়িয়ে যাওয়া এবং তা প্রকাশ্যে স্বীকার করা দলটির আত্মরক্ষামূলক ও দুর্বল রাজনৈতিক অবস্থানের পরিচয় দেয়।
জামায়াত নেতারা প্রায়ই তাদের বক্তব্যে ‘এক আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় না করার’ প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও, এই সিদ্ধান্তে দলীয় আদর্শের তেজ ও মাঠের আচরণের মধ্যে বড় ধরনের বৈপরীত্য ফুটে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত-ছাত্রশিবির নেতাদের নানা সাহসী পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও, বাস্তবে একটি জেলায় পথসভা করা নিয়ে চরম ঝুঁকি এড়ানোর নীতি তাদের সেই দাবিগুলোর সত্যতা ও সাহসিকতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।
রাজনীতি সচেতন জনগণের একাংশ জামায়াত ও বিরোধী জোটের কাছ থেকে গোপালগঞ্জ অভিমুখে একটি বলিষ্ঠ ‘ফাইট’ বা শক্তির মহড়া দেখতে চেয়েছিল। তাদের মতে, সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে জামায়াত যদি গোপালগঞ্জে পথসভা করার সাহস দেখাতে পারত, তবেই তাদের রাজনৈতিক দাবির প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হতো। কিন্তু কোনো প্রকার ঝামেলার ঝুঁকি না নিয়ে সংঘাত এড়ানোর পথ বেছে নেওয়ায়, দলটি কতটা রাজনৈতিকভাবে পরিপক্ক বা শক্তিশালী—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।