
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন: ডায়াবেটিস রোগীদের হঠাৎ ক্ষুধা পেলে অনেক সময়ই নাস্তা হিসেবে মুড়ি বা চিড়া বেছে নেওয়া হয়। তবে এই দুই খাবারের মধ্যে কোনটি ডায়াবেটিসের জন্য বেশি নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর, তা নিয়ে অনেকেরই মনে প্রশ্ন থাকে। পুষ্টিবিদদের মতে, ডায়াবেটিসের রোগীদের ক্ষেত্রে মুড়ির তুলনায় চিড়া অনেক বেশি উপকারী।
চিড়ার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বা জিআই তুলনামূলক কম, যা প্রায় ৩০ থেকে ৬০-এর মধ্যে থাকে। ফলে চিড়া খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। অন্যদিকে, মুড়ির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেকটাই বেশি—প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। তাই মুড়ি বেশি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
মুড়ির তুলনায় চিড়াতে ফাইবারের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে এবং রক্তে শর্করাও ধীরে মেশে। এছাড়া চিড়ার ফাইবার বেশ সহজপাচ্য। যাদের ওটস, কর্নফ্লেক্স বা ব্রাউন ব্রেড খেলে হজমে সমস্যা হয়, তারা বিকল্প হিসেবে অনায়াসেই চিড়া খেতে পারেন।
মুড়ি অতিরিক্ত তাপে প্রক্রিয়াজাত করা হয়, ফলে এর পুষ্টিগুণ কিছুটা কমে যায়। পক্ষান্তরে চিড়া তুলনামূলক কম প্রক্রিয়াজাত হওয়ায় এর প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ অক্ষত থাকে। চিড়াতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ভিটামিন বি থাকে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কার্বোহাইড্রেটের জোগান দিতে চিড়া ভালো বিকল্প হলেও তা নিয়ম মেনে খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত তেল, ঘি, গুড় কিংবা চিনি এড়িয়ে চলা জরুরি। পুষ্টির মাত্রা আরও বাড়াতে সবজি দিয়ে পোহা বা সালাদের মতো করে চিড়া রান্না করে খাওয়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি।