
রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর সাদীপুর আমিনা ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ফিরোজ আহমেদ সাম্প্রতিক কয়েকটি সহিংস ও নৃশংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে মানুষের মানবিকতাবোধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
ফিরোজ আহমেদ তাঁর পোস্টে লেখেন, “মনটা ভীষণ খারাপ। সাম্প্রতিক কয়েকটা ঘটনায় শুধু আমার নয়, আমার মনে হয় আমার মতো অনেকেরই মনটা ভালো যাচ্ছে না। মানুষের মানবিকতাবোধ কি হারিয়ে যাচ্ছে?”
তিনি সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রশ্ন করেন, সামান্য ভাত খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুলনায় একই ছাত্রাবাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা কীভাবে তাদের এক সহপাঠীকে নির্মমভাবে হত্যা করে ছাদ থেকে ফেলে দিতে পারে। একইভাবে সামান্য একটি আইফোনের জন্য অপ্রতিম নামের ১৩ বছরের এক শিশুর প্রাণহানির ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।
পোস্টে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে ফোন চুরির অভিযোগে তোফাজ্জল হোসেনের নির্মম মৃত্যুর ঘটনাটিও স্মরণ করেন। এসব ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ফিরোজ আহমেদ প্রশ্ন করেন, “এ কোন শিক্ষা, এ কেমন মানবিকতা?”
শুধু এসব ঘটনাই নয়, মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়ার নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনাও তিনি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। এরপরও শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা থেমে নেই উল্লেখ করে তিনি পাবনায় শিশু কলিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ টানেন।
এদিকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনাও তিনি তাঁর লেখায় তুলে ধরেন। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে ফিরোজ আহমেদ প্রশ্ন রাখেন, “কিন্তু এসবের শেষ কোথায়?”
সমাজে এ ধরনের নৃশংসতা বন্ধে দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর মতে, শিক্ষার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হবে। তবে সেখানে কোনো রাজনৈতিক শিক্ষা বা উগ্রতা নয়, বরং মানবিকতা ও নৈতিকতার চর্চাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ফিরোজ আহমেদ বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে সরকার একা এ সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। সরকারের পাশাপাশি সমাজের সচেতন মানুষদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। বিশেষ করে যারা রাজনীতির বাইরে থেকে সত্যিকার অর্থে দেশের কল্যাণ চান, তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি তাঁর পোস্টে পীর-মাশায়েখ, আলেম-উলামা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ওয়াজের ময়দান, শ্রেণিকক্ষ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বক্তব্য বা উগ্রতার পরিবর্তে মানুষের মানবিকতার গুরুত্ব, ন্যায়নীতি, নিজ নিজ ধর্ম পালনের বাধ্যবাধকতা এবং একটি সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের বিষয়ে কথা বলা প্রয়োজন।
ফিরোজ আহমেদের মতে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পরিসরে নৈতিক ও মানবিক শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে পারলেই একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গঠনের পথ তৈরি হতে পারে।