
মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দী এলাকায় মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বাহেরান্দী জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটিতে মোশারফ ফকিরকে সভাপতি করায় স্থানীয় বাচ্চু মোড়ল নিজেকে সভাপতি দাবি করে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এর জেরে বাচ্চু মোড়ল ও সাবেক ইউপি সদস্য এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফা হামলা ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে বাচ্চু মোড়লের শতাধিক কর্মী-সমর্থক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের বাড়িঘরে অতর্কিত হামলা চালায়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই তাণ্ডবে হামলাকারীরা এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ঘটায়। এতে অন্তত পাঁচটি বসতঘর আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয় এবং প্রায় ৩০টি ঘরবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। সাবেক ইউপি সদস্য এমদাদ মাতুব্বর ও তামিম মাতুব্বরের দাবি, পুলিশ তাঁদের বাড়িঘর থেকে বের করে দেওয়ার পরই প্রতিপক্ষের লোকেরা অবাধে হামলা ও আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বাচ্চু মোড়ল দাবি করেন, এমদাদ মাতুব্বরের লোকেরাই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নিজেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে তাঁর ওপর দায় চাপাচ্ছেন।
সংবাদ পেয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে বাহেরান্দী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, সহিংসতায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া এবং পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।