নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, বিদেশে অবস্থানরত ইউটিউবাররা তাকে নিয়ে যেভাবে গালি দিয়েছেন, তা কোনো ভদ্রলোকের ভাষা হতে পারে না। তিনি বলেন, “আমি ঢাকার মানুষ। আমি চাইলে ওরা যে ভাষায় গালি দিয়েছে, তার চেয়েও জঘন্য ভাষায় গালি দিতে পারি। কিন্তু আমার পরিবার এসব শেখায়নি।”
৪ এপ্রিল ২০২৫ রোজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহজাহানপুরে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, “দেশে এক গ্রুপ আছে, আরেক গ্রুপ আছে বিদেশে। যারা নাকি নির্বাচনকে বাদ দিয়ে সংস্কারের কথা বলছেন। আবার বলার চেষ্টা করছেন সংস্কারের কথা শুনলে নাকি বিএনপির মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। আমার এখানে তীব্র আপত্তি আছে। বিএনপি কখনো সংস্কারের বিপক্ষে নয়। বিএনপি বরাবর সংস্কারের পক্ষে, একই সঙ্গে নির্বাচনেরও পক্ষে। দুইটিই প্রয়োজন আছে। তবে এমন সংস্কারের পক্ষে বিএনপি নয়, যেটি দেশের জনগণের স্বার্থ ও অধিকারের বাইরে চলে যাবে।”
তিনি অনলাইনে কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সমালোচনা করে বলেন, “গতকাল দেখলাম এক ভদ্রলোক দরবেশ সালমান এফ রহমানের টাকা খেয়ে মোটা হয়েছেন, স্বাস্থ্য ভালো করেছেন, চেহারা সুন্দর করেছেন। তিনি দেশের বাইরে থেকে লম্বা লম্বা কথা বলেন। খুব দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি গতকাল আমার সম্পর্কে খুব বাজে কথা বলেছেন। তো বলতে থাকুক।”
তিনি আরও বলেন, “আরেকজন আছে ফ্রান্সে, আরেকজন, কী যেন নাম—‘জারজ মিল্টন’। সে আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিয়েছে। আর তাকে সমর্থন করেছে পিনাকী। ওরা সবাই একই বংশের, একই গোত্রের সন্তান। কোনো ভদ্রলোক কোনো ভদ্রলোককে গালি দিতে পারে না। আমি ঢাকার মানুষ। আমার বাবা-মা ওদের মতো গালি দেওয়া শেখায়নি।”
মির্জা আব্বাস বলেন, “ওরা আসলে মানুষ নয়, অন্যজাত। যারা দরবেশের টাকা খেয়ে শরীর-স্বাস্থ্য ভালো করে এ দেশের রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে কুৎসা রটনা করে, গালিগালাজ করে—তা দেশের জনগণ মেনে নেবে না। তারা আমার সম্পর্কে, আমার দলের সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার পরিবার সম্পর্কে বাজে ভাষায় কথাবার্তা বলা শুরু করেছে। অপেক্ষা করুন, ক’দিন পর ওরা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাহেবকেও ধরবে।”
তিনি বলেন, “ওরা চায়টা কী? ওরা বিএনপি, আওয়ামী লীগ কিংবা অন্য কাউকে ভালোবাসে না। ওরা ভালোবাসে ভারতকে। ওরা এ দেশে ভারতের আধিপত্য বিস্তার চায় এবং ভারতের কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠিকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ওই সমস্ত লোকজনের জন্য ওরা কাজ করছে। এই গ্রুপটা, এই শুকুরের গোষ্ঠি, কখনো বাংলাদেশে কোনো সরকারকে স্থিতিশীল থাকতে দেবে না।”
“আমি আজকে হলফ করে বলছি, এই গোষ্ঠি দেশকে স্থিতিশীল থাকতে দেবে না। কখনো আমার বিরুদ্ধে, কখনো অমুকের বিরুদ্ধে লেগেই থাকবে। ওরা ইউটিউবে মিথ্যাচার ও কুৎসা রটিয়ে পয়সা কামাইতেছে। ওরা যে ভাষায় কথা বলছে, আমি আর বললাম না,”—যোগ করেন মির্জা আব্বাস।
তিনি শেষ করেন কবি বন্দে আলী মিয়ার কবিতার একটি লাইন দিয়ে: “কুকুরের কাজ কুকুর করেছে, কামড় দিয়েছে পায়ে, তাই বলে কি কুকুরকে কামড় দেওয়া মানুষের শোভা পায়?”