বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১১:২৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
২৬ শর্তে বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ থেকে সঠিক রাজনৈতিক নির্দেশনা নাই অবিভক্ত ঢাকার নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ এর মৃত্যু বার্ষিকীতে ব্যথিত হয়েছি বাসাপ এর জমকালো ৩৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত ব্রাজিলের ৪০০ জার্সি বিতরণ করলেন ঝাল মুড়ি বিক্রেতা মোহাম্মদ জাবেদ বিএনপির সঙ্গে জোটের প্রশ্নই আসে না: রওশন এরশাদ মেয়র হানিফকে হারিয়ে, ঢাকা এখন রাজনৈতিক অন্ধকারে বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়লেন মেসি সিমিন হোসেন রিমি আ.লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনীত হওয়ায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন আবু সাঈদ তালুকদার রিচার্লিসনের জোড়া গোল, দাপুটে জয় ব্রাজিলের

মোহাম্মদপুরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেট টাইম শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩০০ দেখা হয়েছে

মোঃ ইব্রাহিম হোসেনঃ রাজধানী মোহাম্মদপুর টাউনহল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন কমিটির উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপলক্ষ্যে বিরাট ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৬ নভেম্বর ২০২০ রোজ শুক্রবার বাদআছর থেকে মোহাম্মদপুর টাউনহল শহীদ পার্ক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে এ ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

শহীদ পার্ক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি ও মোহাম্মদপুর থানার ৩১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব দিল মোহাম্মাদ দিলুর সভাপতিত্বে মাহফিলে প্রধান মেহমান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন, পীরে তরিতক আল্লামা মুফতী মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন আত্ব-তাহেরী, সারাবাংলায় আলোড়ন সৃষ্টিকারী বক্তা শ-মধুর কন্ঠস্বর মাওলানা মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন জালালী, পীরজাদা জালালীয়া দরবার শরীফ, লাকসাম, কুমিল্লা, তরুন বক্তা মাওলানা এইচ.এম রফিকুল ইসলাম আত্তারী আল-ক্বাদেরী, মতলব উত্তর চাঁদপুর, হাফেজ মাওলানা আব্দুল আল মামুন, পেশ ইমাম, শহীদ পার্ক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমপ্লেক্স, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। মাহফিল পরিচালনা করেন হয়রত মাওলানা মোহাম্মদ জিয়াউল হক রেজভী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ও মোহাম্মদপুর থানার ৩১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধাণ সম্পাদক জনাব মোঃ ওয়ালিউল্লাহ মাষ্টার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওবায়দুল হক, শহীদ পার্ক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক ও ৩১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা কাইয়ুম, মাইনুল হাসান রুবলে, হাফেজ শাহা আলম, মোঃ জসিম উদ্দিন নয়ন, সুহেল, মুন্না সহ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মুসলিম জাহানের পবিত্রতম দিন। এমনই এক দিনে মানবতার মুক্তিদূত, আল্লাহর প্রিয় রসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই পৃথিবীতে আগমন করেন।

আজ থেকে ১৪৪৭ খ্রিস্টীয় বছর এবং হিজরি ১৪৩৯ বছর আগে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের রবিউল আউয়াল মাসের সোমবার দিন দোজাহানের মুক্তিদূত এই নবী জন্মগ্রহণ করেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, জন্মবার হিসেবে প্রিয় নবী প্রতি সোমবার দিন রোজা রাখতেন। তিনি ৬৩ বছর হায়াত লাভ করেছিলেন। এরপর সোমবারই ১১ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে বিশ্বজগৎসমূহের রহমতের এই দূত প্রিয় নবী (সা.) ওফাত লাভ করেন।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরবের বিখ্যাত কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তার দাদা আবদুল মুত্তালিব ছিলেন পবিত্র কাবাগৃহের খাদেম। তার পিতার নাম আবদুল্লাহ ও মাতা আমেনা। দুধমা হালিমা। ব্যক্তিগত সততার জন্য বাল্যকাল থেকেই তিনি আল আমিন বা বিশ্বাসী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। সমাজ থেকে হিংসা-হানাহানি দূর করার জন্য কিশোরবেলায় তিনি ‘হিলফুল ফুজুল’ নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ২৫ বছর বয়সে তিনি হজরত খাদিজা (রা.) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে হেরা গুহায় স্রষ্টার সন্ধানে ১২ বছরের মোরাকাবা বা একাগ্র সাধনায় আল্লাহপাক সন্তুষ্ট হয়ে ৪০ বছর বয়সে মুহাম্মদ (সা.)-কে নবুয়ত দান করেন। এরপর কাফেরদের তীব্র বিরোধিতা ও নানা নির্যাতনের মধ্যেও প্রিয় মুহাম্মদ মুস্তফা আহমদ মুজতাবা (সা.) আল্লাহর একত্ববাদ ও ইসলাম প্রচার করতে থাকেন। তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করলে আল্লাহর নির্দেশে তিনি মাতুলালয় মদিনায় হিজরত করেন। মদিনায় গিয়ে তিনি সব ধর্মের মানুষের সঙ্গে মুসলমানদের শান্তি ও নিরাপদে বসবাসের জন্য ঐতিহাসিক মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন। এর পরও নবীজিকে ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ, ওহুদ যুদ্ধসহ ২৭টি প্রতিরোধযুদ্ধ মোকাবিলা করতে হয়।

ষষ্ঠ হিজরিতে হজ করতে গিয়ে মক্কাবাসীর বাধার কারণে হুদাইবিয়ার সন্ধি করে তাকে ফিরে আসতে হয়। এরপর বিশ্বনবী (সা.) ইসলামের দাওয়াত দিয়ে দূত পাঠান রোম সম্রাট, পারস্য সম্রাট, মিসরের শাসনকর্তাসহ বিভিন্ন রাজদরবারে। এতে ইসলামের বাণী চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

অষ্টম হিজরিতে (৬৩০ খ্রিস্টাব্দ) মক্কাবাসী হুদাইবিয়ার সন্ধি ভঙ্গ করলে নবীজি ১০ হাজার সাহাবা নিয়ে মক্কা অভিযান শুরু করেন। এ সময় তিনি ঘোষণা করেন, যারা নিজ ঘরে ও কাবাঘরে আশ্রয় নেবে তারা সাধারণ ক্ষমা পাবে। এরপর আর কেউ নবীজির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই আল্লাহর নবী বিজয়ীর বেশে মক্কা নগরে প্রবেশ করেন। ২৩ বছর শ্রমসাধনায় অবশেষে রসুলে পাক (সা.) দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিজয় অর্জন করেন। মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে তা পূর্ণতা লাভ করে। এদিন কারও ওপর কোনো প্রতিশোধ গ্রহণ করা হয়নি। তবে কাবাশরিফের ভিতর থেকে ৩৬০টি মূর্তি উচ্ছেদ করে আল্লাহর ঘরকে পবিত্র করা হয়।

দশম হিজরিতে নবী করিম (সা.) জীবনের শেষতম হজ পালন করেন। এদিন ওহি নাজিল করে আল্লাহ ঘোষণা করেন, আজ থেকে তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন তথা ইসলামকে পরিপূর্ণ করে দেওয়া হলো। তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে একমাত্র ইসলামকে মনোনীত করা হয়েছে। বিদায় হজের খুতবায় মানবতার মুক্তিদূত রসুলুল্লাহ (সা.) মানবজাতির জন্য শান্তি, কল্যাণ ও নিরাপত্তার দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

১১ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ সোমবার বিশ্বজগৎসমূহের রহমতের দূত প্রিয় নবী (সা.) ওফাত লাভ করেন।

ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল বাদ আছর থেকে শুরু হয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত চলে। মাহফিলে কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশ নেন। বক্তারা ঈদে মিলাদুন্নবীর স্বপক্ষে কোরআন হাদিস থেকে অসংখ্য দলিল উপস্থাপন করেন এবং যারা ঈদে মিলাদুন্নবীকে বিদ্আত নাজায়েজ বলে তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়ে তাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন।

ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল শেষে সকল শাহাদাত বরণকারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয় এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর-আদাবর ও শেরেবাংলা নগর) আসনের এমপি ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আলহাজ্ব মোঃ সাদেক খান ও তার সপরিবারের আশু রোগমুক্তি কামনা ও আওয়ামী লীগ এর সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও ঢাকা-১৩ আসনের সাবেক এমপি এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ঢাকা মহানগর-উত্তর আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের দীর্ঘ নেক হায়াত কামনা করে দোয়া করা হয়। চলমান করোনা মহামারিতে মৃত্যুবরণকারীদের শহীদের মর্জাদা দান ও আক্রান্তদের আরোগ্য দানের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মাহফিল শেষ হয়।

শেয়ার করুন

এই ধরনের আরও খবর...

Dairy and pen distribution

themesba-lates1749691102