বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৪২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
গুরুতর অসুস্থ মোঃ মনিরুজ্জামানের জন্য সকলের নিকট দোয়া চেয়েছেন, লিটন মাস্টার ডিসেম্বর বাঙালি জাতির বিজয়ের মাস, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আপন ঠিকানা মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে পছন্দের শীর্ষে শারমিন সরকার আগামীকাল থেকেই দেশের সব জায়গায় নেতাকর্মীদের পাহারায় থাকতে বললেন : ওবায়দুল কাদের কাউখালীতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতার মুখ থেঁতলে দিল সন্ত্রাসীরা বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে নতুন ষড়যন্ত্রঃ আব্দুর রহমান শাহ্ ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ’ নামকরণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু: আবু সাঈদ তালুকদার ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষক লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হলেন আব্দুস সালাম জয় বিএনপির ভয় কি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের,পাকিস্তানের পরাজয়ের স্থানের ? ক্যামেরুনের কাছে হারল ব্রাজিল

মোহাম্মদপুরে করোনা পরিস্থিতিতে পথশিশুদের সুরক্ষায় করনীয় শীর্ষক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

মোছা মিম, ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট টাইম বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০
  • ২১৯ দেখা হয়েছে

কারিতাস ড্রীম প্রকল্পের উদ্যোগে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সুবিধা বঞ্চিত পথশিশুদের সুরক্ষায় প্রশাসন, মিডিয়া ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের করনীয় শীর্ষক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৫ নভেম্বর ২০২০ রোজ বুধবার বিকালে মোহাম্মদপুর চাঁদ উদ্যানে এ শীর্ষক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বিশ্বের সব মানুষ। কোভিড-১৯ যেকোনও সময়, যে কারও মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়িয়ে চলার জন্য বলা হলেও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য তা অনেকাংশেই সম্ভব হয়ে উঠছে না। আর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুরা।

ইউনিসেফের তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৪ জন পথশিশু রয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) হিসাব মতে, শুধু ঢাকা শহরে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার পথশিশু রয়েছে। এ বিপুলসংখ্যক শিশু শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টিসহ নানা মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

পথশিশুরা নানা রকম সমস্যা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বড় হয়। তারা সব মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তারা মা-বাবার স্নেহ,  দাদা-দাদির আদর, ভাই-বোনের সোহাগ-ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের পথের জীবন অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর,  নিরাপত্তাহীন। তাদের অধিকাংশ অপুষ্টির শিকার, পথে তারা শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়, এমনকি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারাও কখনো কখনো নির্যাতিত হয়। মোট কথা, তাদের স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা পদে পদে হয় বিঘ্নিত। এসব কারণে তারা নানা অসামাজিক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিজেদের জড়িয়ে ফেলে। পরবর্তী সময়ে দেশ ও সমাজের জন্য এরা বোঝা হয়ে বেড়ে ওঠে।

এছাড়া যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পথশিশুদের দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে যায় এবং তাদের ওই পরিস্থিতির সঙ্গে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়। বর্তমান করোনা মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পর পথশিশুদের পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে পড়েছে।

করোনা বিস্তার রোধে বাংলাদেশ সরকার ২৫ মার্চ থেকে সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করে এবং যাবতীয় যানবাহন, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত বন্ধ ঘোষণা করে। লকডাউন চালু হওয়ার পর পরই পথশিশুদের মুখোমুখি হতে হয় এক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’, করোনা প্রকোপ শুরু হওয়ার পর পথশিশুদের অবস্থা হয়েছে ঠিক এমনই। পথশিশুদের অবস্থা সবসসময়ই নাজুক ছিল, কিন্তু করোনা প্রকোপ শুরু হওয়ার পর তাদের অবস্থা আরো দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। আমরা যারা ঢাকা শহরে পথশিশুদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করি, আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখেছি যে ঢাকা শহরে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে একা একা থাকে যে পথশিশুরা, তারা। এই শ্রেণীর পথশিশুরা যেসব কাজ করে সেগুলো হলো ভাঙ্গারি কুড়ানো, ভিক্ষা করা, কুলির কাজ, আশপাশের কোনো রেস্টুরেন্টে বয়ের কাজ। লকডাউন শুরু হওয়ার পর পথশিশুরা খাদ্য সংকটে পড়ে। তাদের হাতে কোনো কাজ না থাকায় তারা খাবার কিনে খেতেও পারে না। পর্যাপ্ত শেল্টারের অভাবে তাদের খোলা আকাশে, রেলস্টেশনে, বাসস্ট্যান্ডে ও নদীবন্দর এলাকায় অনিরাপদ অবস্থায় রাত্রি যাপন করতে দেখা যায়।  এছাড়া করোনা সম্পর্কে তাদের ধারণা অপ্রতুল এবং বেশ অসচেতন। তারা স্বাস্থ্যবিধি মানে না, নিয়মিত মাস্ক পরতে চায় না। তাই তারা সবসময় করোনা সংক্রমণ ঝুঁকিতে থাকে।

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পথশিশু, সুবিধাবঞ্চিত এবং অসহায় শিশুদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। পথশিশুদের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ দিতে হবে। শিশুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে কাজের সমন্বয় ত্বরান্বিতকরণ করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে তাত্ক্ষণিকভাবে পথশিশুদের সাময়িক অবস্থান ও খাদ্য সরবরাহের যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে, তা ক্রমান্ব্বয়ে নিয়মিত প্রোগ্রামে রূপান্তরের প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে, ঢাকা শহরের পথশিশুদের নিরাপত্তার জন্য সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত শেল্টার হোমের ব্যবস্থা করতে হবে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিশু একক বা পরিবারের সঙ্গে জীবিকার সন্ধানে প্রতিনিয়ত ঢাকা শহরে চলে আসে। তাই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় কভিড-১৯, নদীভাঙন ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অসহায় অবস্থা শনাক্তকরণের লক্ষ্যে একটি ব্যাপক জরিপ-সমীক্ষা পরিচালনা করতে হবে, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ এবং চলমান কর্মসূচির আলোকে একটি সমন্বিত প্লাটফর্ম গঠন করতে হবে, পথশিশু, সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় শিশুদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে, পথশিশু, সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় শিশু যাতে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ, শারীরিক, যৌন, মাদকাসক্ত, হয়রানি ও পাচারের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সবার সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে দেশব্যাপী কার্যক্রম হাতে নিতে হবে এবং পথে অবস্থানকারী শিশুরা যাতে তাদের মা-বাবা, অভিভাবক বা পরিবারে ফিরে যেতে পারে, সে ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

বক্তরা আরো বলেন, পথশিশুদের জন্য পথের চেয়ে পরিবারই একমাত্র নিরাপদ স্থান। তাদের পরিবারেই সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ঘোষিত ও বাস্তবায়িত সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে প্রান্তিক গরিব পরিরবারের সেবা ও সুবিধা পাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। আমরা পথশিশুমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। কাজটি অত্যন্ত দুরূহ। কিন্তু এ দুরূহ কাজটি সরকারি, বেসরকারি, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও ব্যক্তি সবাই মিলে একযোগে করলে অত্যন্ত সহজ হবে। তাই প্রত্যাশা করি, কভিড-১৯ অতিমারী দ্রুত কেটে যাক আর আলোয় আলোয় ভরে উঠুক শিশুবান্ধব সোনার বাংলা, যেখানে প্রতিটি শিশু ফিরে পাবে তার মৌলিক অধিকার।

শেয়ার করুন

এই ধরনের আরও খবর...

Dairy and pen distribution

themesba-lates1749691102