বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ০১:২৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ঝিনাইদহে ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও বেঁধে রাখার হুমকি।। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে নিন্দা জানিয়ে অসংখ্য সাংবাদিক। কোরবানীর কাঁচা চামড়ার মুল্য নির্ধারণ, বানিজ্য মন্ত্রনালয়কে নিয়ে চলছে রং তামাশা শিক্ষক হত্যা ও জুতার মালা এখন বাঙালি জাতিকে বহন করতে হচ্ছে পদ্মা সেতু হয়ে টুঙ্গিপাড়া গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা শ্রদ্ধা মন খুলে দে,ও তুই হেলা করিস না, গোপালগঞ্জে যাবরে ভাই মোটরসাইকেল নিয়া ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে মান্নান হোসেন শাহীন সভাপতি, শেখ মোঃ জহিরুল ইসলাম অপু সাধারণ সম্পাদক ৩২ নং ওয়ার্ডে মোঃ বেলাল আহমেদ সভাপতি, মোঃ আবুল বাশার সাধারণ সম্পাদক ৩১ নং ওয়ার্ডে শহীদ আলী সভাপতি, সাজেদুল হক খান রনি সাধারণ সম্পাদক গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে শিগগিরই আর একটি গণঅভ্যুত্থান হবে: আমান উল্লাহ আমান

মহানবীর শিক্ষা :  মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০২২
  • ৩২ দেখা হয়েছে

মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী

আকায়ে নামদার তাজেদার মদীনা হযরত মুহাম্মাদ রাসূল (সা:) এর আগমনের পূর্বে যে যুগটি ছিল, অন্ধকারের যুগ, অজ্ঞতার যুগ, বর্বরতার যুগ ও কুসংস্কারের যুগ। অর্থাৎ আইয়ামে জাহেলিয়ার যুগ। যে যুগে কন্যা সন্তানদের কে হত্য করা হতো ও জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। যে যুগে কোন নিয়ম কানুন ছিল না সরকারী কোন শাসক বা বাদশা ছিল না। যে যুগে চলতো মারামারি কাটাকাটি হত্যা ও খুন। যে যুগে মানুষের কোন নিরাপত্তা ছিল না ও কোন নারীর নিরাপত্তা ছিল না। চলতো ডাকাতী জুলুম ও অত্যাচার, সবসময় ছিল আতঙ্ক। ছিল না কোন শিক্ষা, সেবা, চিকিৎসা ও সুষ্ঠ ব্যবসা।
এই অশান্তি ও অন্ধাকারের যুগের মধ্যে শান্তির মেসেজ নিয়ে আমাদের প্রিয় নবীজী (সা:) আগমন করেন। তাঁরপরে প্রিয় নবীজি (সা:) সবাইকে শান্তির মেসেজ দিতে লাগলেন ও আল্লাহর বাণী প্রচার করতে থাকেন। আমাদের প্রিয় নবীজী (সা:) এমনভাবে মধুর ভাষা দিয়ে তাঁদের কে আল্লাহর পথে দাওয়াত দিতে থাকেন এবং তাঁরা আস্তে আস্তে পরিবর্তন হতে লাগলেন। প্রিয় নবীজির শিক্ষা পেয়ে তাঁরা আলোকিত হয়ে যায় এবং অন্ধকার যুগ দূর হয়ে শান্তির যুগ ফিরে আসে।
আমাদের প্রিয় নবীজি (সা:) কে দান করা হয় আল কুরআন। আল কুরআন মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ সংবিধান। আল কুরআন হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ট কিতাব। যারা আল কুরআনের পথে চলবে তাঁরা দুনিয়াতে সফলকাম ও আখিরাতে সফলকাম। আল কুরআন তেলোয়াত করলে অনেক সওয়াব, আল কুরআন তেলায়াত করার জন্য মহানবী (সা:) নির্দেশ দিয়েছেন। প্রিয় নবীজী (সা:) বলেন, যে ব্যাক্তি কুরআনের একটি হরফ পাঠ করে, তাকে একটি নেকি প্রদান করা হয়। প্রতিটি নেকি দশটি নেকির সমান। আমি বলি না যে, আলিফ লাম মীম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, মীম একটি হরফ। (তিরমিজি-২৯১০)
প্রিয় নবীজী (সা:) বলেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সেই, যে নিজে কুরআন শিক্ষা করে ও অপরকে শিক্ষা দেয়। (সহিহ বুখারি) প্রিয় নবীজী (সা:) আরো বলেন, তোমরা কুরআন তেলাওয়াত করো, কারণ কুরআন কেয়ামতের দিন তেলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে। (সহীহ মুসলীম-১৯১০) কুরআন শরীফ বেশী বেশী তেলাওয়াত করা, আল কুরআনের পথে চলা এটা মহানবীর শিক্ষা।
নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম। ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো নামাজ। প্রিয় পাঠক ! নামাজ সম্পর্কে মহানবী (সা:) এর শিক্ষামূলক কয়েকটি নামাজ জানবো। হযরত উম্মি ফারওয়াহ রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী কারিম (সা.) কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, সবচেয়ে মর্যাদাবান ‘আমল কোনটি? তিনি বলেন, ওয়াক্তের প্রারম্ভে সালাত আদায় করা। (সুনানু আবী দাঊদ: ৪২৬, জামি’উত তিরমিযী:১৭০) হযরত আবূ হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, মুনাফিকদের কাছে ফজর ও ইশা অপেক্ষা অধিক ভারী কোনো সালাত নেই। আর যদি তারা জানত যে, এতদুভয়ের মধ্যে কী (ফযীলাত) রয়েছে, তাহলে অবশ্যই তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এর জন্যে আসত। (সহীহ বুখারী: ৬৫৭, সহীহ মুসলিম: ৬৫১) হযরত জাবির (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, বান্দা (আনুগত্য) ও কুফরীর মধ্যে (পার্থক্য) হলো সালাত ত্যাগ করা। (সহীহ মুসলিম:৮২) হযরত আবূ হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের অভিমত কী, যদি তোমাদের কারো দরজায় একটি পানির নহর থাকে যাতে সে দৈনিক পাঁচ বার গোসল করে, তার শরীরে কি কোনো ময়লা অবশিষ্ট থাকতে পারে? তারা (সাহাবীগণ) উত্তরে বললেন, তার শরীরে কোনো ময়লা থাকতে পারে না। রাসূল (সা.) বললেন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উদাহরণ এরূপই। বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা তার অপরাধসমূহ মিটিয়ে দেন। (সহীহ বুখারী: ৫২৮, সহীহ মুসলিম: ৬৬৭) হযরত আবূ হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমার সালাত থেকে অপর জুমার সালাত এবং এক রমযান মাসের সিয়াম হতে অপর রমজান মাসের রোজা সেসব গুনাহের জন্যে কাফফারা হয়, যা এর মধ্যবর্তী সময়ে হয়ে থাকে; যখন কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়। (সহীহ মুসলিম:২৩৩) হযরত ‘আমর ইবনে শুয়াইব রহ. হতে বর্ণিত। তিনি তার পিতা হতে, তার পিতা তার দাদা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে সালাতের জন্যে আদেশ কর, যখন তারা সাত বছর বয়সে পৌঁছাবে। আর যখন তারা দশ বছর বয়সে পৌঁছবে, তখন তাদেরকে সালাতের জন্যে প্রহার কর এবং তাদের শোয়ার স্থান পৃথক করে দাও। (সুনানু আবী দাঊদ: ৪৯৫) সারাজীবনে ৫ওয়াক্ত নামাজ আদায় এটা মহানবীর শিক্ষা।
রমজান মাস ছাড়া আমরা বেশী বেশী নফল রোজা আদায় করবো। সবসময় নফল রোজা আদায় করা এটা মহানবীর শিক্ষা।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক বস্তুর জাকাত আছে, শরীরের জাকাত রোজা।’ (ইবনে মাজাহ, মিশকাত)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘রোজা ঢালস্বরূপ এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচার সুদৃঢ় দুর্গ।’ (নাসায়ি)। হযরত ইবনে খুজাইমা ও হাকিম আবু ইমাম বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! আপনি আমাদের কিছু আমল করার উপদেশ দান করুন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রোজা অবলম্বন করো, এর সমকক্ষ কোনো আমল নেই।’ তাঁরা পুনরায় বললেন, আমাদের কোনো আমল বলে দিন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রোজা অবলম্বন করো, এর সমতুল্য কোনো আমল নেই।’ তাঁরা পুনরায় একই প্রার্থনা করলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) পুনরায় একই আদেশ করলেন। (সুনানু নাসায়ি)। হযরত মুআজ ইবনে আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন ‘যে ব্যক্তি রমজান মাস ছাড়া অন্য সময় আল্লাহ তাআলার জন্য একটি রোজা রাখবে; দ্রুতগামী ঘোড়া ১০০ বছরে যত দূর রাস্তা অতিক্রম করতে পারে, দোজখ তার কাছ থেকে তত দূরে অবস্থান করবে।’ (তিরমিজি ও নাসায়ি)। হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার জন্য একটি রোজা রাখবে, আল্লাহ তাআলা তার মুখমণ্ডল দোজখের আগুন থেকে ৭০০ বছরের রাস্তা দূরে রাখবেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)। হযরত আবু দারদা (রা.) ও হজরত আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার জন্য পালনকৃত একটি রোজার ফলে জাহান্নাম (ওই রোজাদার ব্যক্তি থেকে) আসমান-জমিনের দূরত্বে অবস্থান করবে।’ (তিরমিজি ও তাবরানি)। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি কেউ এক দিন নফল রোজা রাখে, তবে তার যে সওয়াব হবে, তা পৃথিবীর সমান স্বর্ণ দান করলেও তার সমান হবে না।’ (তাবরানি ও আবু ইয়ালি) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রোজাদার ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়। (বায়হাকি)। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, হাদিসে কুদসিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে ‘আল্লাহ তাআলা বলেন, রোজা আমারই জন্য, আমি নিজেই তার প্রতিদান দেব; রোজা আমারই জন্য আমি নিজেই তার প্রতিদান।’ (বুখারি ও মুসলিম)। আসুন আমরা সবসময় নফল রোজা আদায় করবো।
ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি হলো হজ্জ। হজ্জ ও উমরা পালনে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য অনেক প্রতিদান রয়েছে। এ বিষয়ে কিছু হাদীস উল্লেখ করা হলো- জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এ ঘর (কাবা) ইসলামের স্তম্ভস্বরূপ। সুতরাং যে ব্যক্তি হজ্জ কিংবা উমরা পালনের জন্য এ ঘরের উদ্দেশে বের হবে সে আল্লাহর যিম্মাদারীতে থাকবে। এ পথে তার মৃত্যু হলে আল্লাহ তাকে বেহেশতে প্রবেশ করাবেন। আর বাড়িতে ফিরে আসার তাওফিক দিলে তাকে প্রতিদান ও গণিমত দিয়ে প্রত্যাবর্তন করাবেন। অন্য আরো একটি হাদিসে এসেছে, আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এক উমরা থেকে অপর উমরা পালন করার মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে হয়ে যাওয়া পাপরাশি এমনিতেই মাফ হয়ে যায়। আর মাবরূর হজ্জের বিনিময় নিশ্চিত জান্নাত। (বুখারী) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) কে জিজ্ঞাসা করা হয়, সর্বোত্তম আমল কোনটি? জবাবে নবী (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা। অত:পর জিজ্ঞেস করা হলো তারপর কোন আমল? তিনি উত্তর দিলেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা। আবার জিজ্ঞাস করা হলো এরপর কোন আমল? জবাবে তিনি বললেন, ‘মাবরূর হজ্জ’ (কবুল হজ্জ) (বুখারী ও মুসলিম) ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর পথে জিহাদকারী এবং হজ্জ ও উমরা পালনকারীরা আল্লাহর মেহমান। আল্লাহ তাদের আহ্বান করেছেন, তারা সে আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। তারা আল্লাহর কাছে যা চাইছে আল্লাহ তাই তাদের দিয়ে দিচ্ছেন। (ইবনে মাজাহ ) অন্য হাদীসে আছে, হজ্জ ও উমরা পালনকারীরা আল্লাহর মেহমান। তারা দোয়া করলে তা কবুল হয়ে যায় এবং গুনাহ মাফ চাইলে তা মাফ করে দেয়া হয়। (ইবনে মাজাহ) আবু হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহকে খুশী করার জন্য হজ্জ করল এবং হজ্জকালে যৌন সম্ভোগ ও কোনো প্রকার পাপাচারে লিপ্ত হল না সে যেন মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ট হবার দিনের মতই নিষ্পাপ হয়ে বাড়ি ফিরল। (বুখারী)। অন্য আরো একটি হাদিসে এসেছে, আমর ইবনুল আসকে নবী (সা.) বলেছিলেন, তুমি কি জান না ইসলাম গ্রহণ করলে পূর্বের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়। তদ্রুপ হিজরতকারীর আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয় এবং হজ্জ পালনকারীও পূর্বের গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যায়। (মুসলিম) হজ্ব ও ওমরা পালন করা এটা মহানবীর শিক্ষা।
দান সদকাহ করা এটা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। প্রিয় নবী (সা:) বলেন, একটুকরো খেজুর দ্বারা হলেও তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে আত্মরক্ষা করো। (সহিহুল বুখারী ১৩২৮) দানকারী নগদ প্রতিদান ও ফেরেশতাদের দুআ পায়:প্রিয় নবী (সা:) বলেন, প্রতিদিন আকাশ থেকে দুইজন ফেরেশতা নেমে আসেন। একজন বলেন, হে আল্লাহ, (আজকের দিনের) দানকারী কে তার প্রতিদান দাও। আর অপরজন বলে হে আল্লাহ, কৃপণ লোককে শীঘ্রই ধ্বংস করো। (সহিহুল বুখারী ১৩৫১) দান করলে, আল্লাহও দান করবেন: প্রিয় নবী (সা:) বলেন, মহান আল্লাহ বলেছেন, হে আদম সন্তান! তুমি খরচ করো, তাহলে তোমার প্রতিও খরচ করা হবে। (সহিহুল বুখারী ৪৯৩৩) দান সর্বোত্তম আমল: কোনো এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললো, ইসলামের কোন আমলটি সর্বেত্তম? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কাউকে খাবার খাওয়ানো ও পরিচিত অপরিচিত সবাইকে সালাম দেয়া। (সহিহুল বুখারী ) দানকারীর হাত উত্তম হাত, প্রিয় নবী (সা:) বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি যদি তোমার প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পদ খরচ করো তাহলে সেটা তোমার জন্য কল্যাণকর। আর যদি তা ধরে রাখো, তাহলে সেটা তোমার জন্য অনিষ্টকর। তোমার জন্য যে পরিমাণ সম্পদ যথেষ্ট তা ধরে রাখাতে তোমার জন্য কোনো তিরষ্কার নেই। আর দান শুরু করবে তোমার নিকটাত্মীয়দের থেকে। উপরের হাত নীচের হাতের চেয়ে উত্তম। (সহিহ মুসলিম ২৪৩৫) দানে সম্পদ বাড়বেই বাড়বে: আমাদের বাহ্যিক দৃষ্টিতে যদিও দেখি দান করলে সম্পদ কমে যায়। কিন্ত বাস্তবতা তার পুরো উল্টো।প্রিয় নবী (সা:) বলেন, সাদাকাহ করলে সম্পদ কমেনা। (সহিহ মুসলিম ৬৭৫৭) বেশী বেশী দান সদকাহ করা মহানবীর শিক্ষা।
ভিক্ষাবৃত্তি একটি সামাজিক সমস্যা ও অভিশাপ। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেও ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধ। কারণ ভিক্ষাবৃত্তি কোনো স্বীকৃত পেশা নয়। এর পরও চলার পথে হাটে-বাজারে, দোকানে, পরিবহনে, রিকশায় ওঠার সময় ভিক্ষুকের জন্য বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। তারা হঠাৎ করে নানা ভঙ্গিতে, বিচিত্রভাবে সামনে এসে হাজির হয়ে যায় এবং সাহায্যের জন্য হাত বাড়ায়। তাদের আবেদন নিবেদনে অনেকের মন গলে যায় এবং অনেকে যথাসাধ্য সাহায্য করার চেষ্টা করে। মসজিদে জুমার দিন, রোজার সময়, শবেবরাত বা শবেকদর কিংবা ঈদের দিন ভিক্ষুকের যন্ত্রণায় রাস্তায় চলা যায় না। প্রিয় নবী (সা:) বলেন, প্রয়োজনীয় মাল থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি অন্যের কাছে চায় সে বিচার দিবসে এমন অবস্থায় উঠবে যে, তার চেহারায় নখের আঁচড় থাকবে। জনৈক সাহাবি আরজ করেন, প্রয়োজনীয় সম্পদ কী পরিমাণ? রাসূলুল্লাহ (সা:) উত্তরে বলেন, ‘৫০ দিরহাম অথবা সমমূল্যের স্বর্ণ’। (আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, দারেমি, মিশকাত হাদিস-১৮৪৭) হযরত আনাস (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন একজন আনসার সাহাবি মহানবী (সা:) এর কাছে এসে কিছু চাইলেন। রাসূল (সা:) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার কি কিছুই নেই’ সাহাবি বললেন, হ্যাঁ একটি বড় চাদর আছে, যার এক অংশ আমি পরিধান করি, আরেক অংশ বিছিয়ে নিদ্রা যাই। আর পান করার একটি পাত্র আছে। রাসূলুল্লাহ (সা:) বললেন, ‘উভয়টি নিয়ে আসো। অতঃপর সাহাবি উভয়টি নিয়ে এলেন। রাসূলুল্লাহ( সা:) উভয়টি হাতে নিয়ে বললেন, ‘এ দুটি জিনিস কে ক্রয় করবে’। একজন সাহাবি বললেন, আমি এক দিরহাম দিয়ে ক্রয় করব। রাসূলুল্লাহ (সা:) বললেন, ‘এক দিরহামের বেশি দিয়ে কে ক্রয় করবে?’ এ কথা তিনি দু’বার অথবা তিনবার বললেন। তখন অপর এক সাহাবি বললেন, আমি উভয়টি দুই দিরহামে ক্রয় করব। অতঃপর বস্তুদ্বয়ের মালিককে দিরহাম দুটি দিয়ে বললেন যাও, এক দিরহাম দিয়ে পরিবারের জন্য খাদ্য কিনবে, আর অপর দিরহাম দিয়ে একটি কুঠার কিনে আমার কাছে নিয়ে আসবে।’ অতঃপর সে কুঠার নিয়ে এলে রাসূলুল্লাহ (সা:) নিজ হাতে তার হাতল লাগান। অতঃপর বললেন, ‘জঙ্গলে গিয়ে কাঠ কাটবে এবং বাজারে গিয়ে বিক্রি করবে। ১৫ দিন আমি যেন তোমাকে না দেখি। অর্থাৎ ১৫ দিন আমার কাছে আসবে না।
অতঃপর সে চলে গেল এবং কাঠ কেটে বিক্রি করতে লাগল। ১৫ দিনে তার কাছে ১০ দিরহাম জমা হলো। সে কিছু দিরহাম দিয়ে জামা এবং কিছু দিরহাম দিয়ে খাদ্য ক্রয় করল। কিছু দিনের মধ্যে তার অভাব দূরীভূত হয়ে গেল। মহানবী (সা:) অন্যের কাছে না চেয়ে কর্ম করে খাওয়া যে উত্তম তাকে বুঝিয়ে দিলেন। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)
সমস্ত নবী-রাসূলগণ নিজ হাতে কাজ করে খেতেন। তাদের সবারই কোনো না কোনো পেশা ছিল। হযরত আদম (আ:) ও হজরত নূহ (আ:) ছিলেন কৃষক। হয়রত ইদরিস (আ): ছিলেন দর্জি। হযরত হুদ (আ:) ছিলেন ব্যবসায়ী ও রাখাল। হযরত ইবরাহিম (আ:) এর পেশা ছিল পশুপালন ও দুধ বিক্রি করা। হযরত মূসা (আ:) ছিলেন রাখাল। হযরত ইউনূস (আ:) এর পেশা ছিল কৃষিকাজ করা। হযরত জাকারিয়া (আ:) ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। আমাদের প্রিয় নবী (সা:) এর পেশা ছিল ব্যবসা। কোনো নবী-রাসূল অন্যের কাছে কোনো কিছু চাইতেন না। সুতরাং মহানবী (সা:) এর শিক্ষা হলো ভিক্ষা করো না, মেহনত করো। লেখক: আলেম, প্রাবন্ধিক।

শেয়ার করুন

এই ধরনের আরও খবর...

Dairy and pen distribution

themesba-lates1749691102