May 19, 2024, 5:24 pm
শিরোনামঃ
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে মৎস্যজীবী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা বিচার ব্যবস্তার সুচনার ইতিহাস জানিনা, বিতর্কের শেষ কোথায় ? বুঝতে পারছি না বঙ্গ কণ্যার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও বাংলার মাটি কে বুকে ধারন, ইতিহাসের অংশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি পাঠাগারের কমিটি গঠন জহির সভাপতি ও লিটন সাধারণ সম্পাদক গাজায় নিজেদের গোলার আঘাতে পাঁচ ইসরায়েলি সেনা নিহত তালের শাঁস খেলে যেসব উপকার হয় ঢাকা শহরে কোনো ব্যাটারিচালিত রিকশা চলবে না: ওবায়দুল কাদের বিশ্বাস পুনর্নির্মাণের জন্য আমি বাংলাদেশ সফর করছি: ডোনাল্ড লু ভারতবর্ষে হিন্দু মুসলমানের রাজনীতি হয়,মহাত্মা গান্ধী সকল ধর্মের রাজনীতি নাই গুলিস্তান-মিরপুরের কাপড় পাকিস্তানের বলে বিক্রি করেন তনি!

বৈশাখে রমনা বটমূলে বোমা হামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুফতি শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : Friday, April 15, 2022
  • 259 Time View

মোহাম্মদ ইরফান।

২০০১ সালে পয়লা বৈশাখে রাজধানীর রমনা বটমূলে বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুফতি শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।
র‍্যাব জানায়, নরসিংদী থাকাকালীন নিজের পরিচয় গোপন করে “আব্দুল করিম” ছদ্মনামে পরিচয় দিতেন। এছাড়া তিনি ওই এলাকায় আব্দুল করিম নাম ব্যবহার করে এলাকার চরে অবস্থিত একটি মসজিদে মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে ইমামতির চাকরি করতেন।

বৃহস্পতিবার ( ১৪ এপ্রিল) রাতে র‌্যাব-২ কিশোরগঞ্জের ভৈরব এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত বোমা হামলার সাথে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে।

গ্রেফতারকৃত আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‍্যাবকে জানায়, সে নিজ গ্রাম থেকে ৫ম শ্রেণি পাশ করার পর মাদ্রাসায় পড়াশোনা শুরু করে। ১৯৭৫ সালে চকবাজার, ঢাকায় অবস্থিত একটি মাদ্রাসা হতে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত হেদায়ায় পড়াশোনা করে। হেদায়া পাস করার পর ১৯৮৩ সালে পার্শ্ববর্তী দেশে দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত দাওরায়ে হাদিস (টাইটেল) পাস করে বাংলাদেশে ফেরত আসে। ১৯৮৭ সালে পাকিস্তানের করাচিতে ইউসুফ বিন নুরী মাদ্রাসায় ফতোয়া বিভাগে ভর্তি হয়ে ৩ বছরের ইফতা (ফতোয়া) কোর্স সম্পন্ন করে। ১৯৮৯ সালে পাকিস্তানে অবস্থানকালীন সে আফগানিস্তানে চলে যায় এবং তালেবানদের পক্ষে যুদ্ধ করেন। অতঃপর ১৯৮৯ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশে ফিরে আসে। বাংলাদেশে আসার পর সে ঢাকার খিলগাঁও এ একটি মাদ্রাসায় পার্ট টাইম শিক্ষকতা শুরু করে। ১৯৮৭ সালে পাকিস্তানের করাচীর নিউ টাউন এ পড়াশোনা করার সময় সেই প্রতিষ্ঠানে মুফতি হান্নানও পড়াশোনা করতে গেলে তার সাথে পরিচয় হয়। পাকিস্তান থেকে আফগানিস্তানে ভ্রমনে গেলে আফগানিস্তানে থাকাকালীন জঙ্গী সংগঠন ‘হরকাতুল জিহাদের’ সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। আফগানিস্তান থেকে দেশে এসে ‘হরকাতুল জিহাদ (বি)’ নামে একটি জঙ্গি সংগঠন গড়ে তোলার চিন্তা করে। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে দেশে ফেরত এসে সমমনাদের সাথে নিয়ে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে ‘হরকাতুল জিহাদ (বি)’ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে এবং দাওয়াতের কাজ শুরু করে। ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত সে ‘হরকাতুল জিহাদ (বি)’ এর প্রচার সম্পাদক ছিল। ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত সে হরকাতুল জিহাদ এর আমীর ছিল। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত সে হরকাতুল জিহাদ এর সুরা সদস্য ছিল।

শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, ২০০১ সালের গত ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় প্রকাশ্য দিবালোকে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত বোমা হামলায় ১০ জন মৃত্যুবরণ করেন এবং আরও অনেকে আহত হন। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলাসহ অপর একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা রুজু করা হয়। হত্যা মামলাটির বিচারান্তে ২০১৪ সালের ২৩ জুন ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। অপরদিকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলাটি বিজ্ঞ দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যাল-১ এ বিচারাধীন রয়েছে। এই হত্যা মামলার পলাতক সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে র‌্যাব দীর্ঘদিন যাবৎ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে একটি জনসভা চলাকালে প্রকাশ্য দিবালোকে গ্রেনেড হামলা হয়। উক্ত গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত হন এবং প্রায় তিন শতাধিক গুরুতর আহত হয়। উক্ত ঘটনায় ঢাকার মতিঝিল থানায় একটি হত্যা ও হত্যা চেষ্টার সহযোগিতাসহ ০২টি পৃথক মামলা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত ১০ অক্টোবর ২০১৮ সালে ঢাকার দ্রæত বিচার ট্রাইবুন্যাল ১৯ জনকে মৃত্যুদন্ড এবং মুফতি শফিকুর রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেন। গ্রেফতারকৃত শফিকুর রহমান উক্ত গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনার সাথে সম্পৃক্ত ছিল। অপরদিকে একই ঘটনায় ঢাকার মতিঝিল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে অপর একটি মামলা রুজু করা হয়। গ্রেফতারকৃত মুফতি শফিকুর রহমান বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলারও পলাতক আসামী। এছাড়াও ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর থানাধীন বৈদ্যের বাজারে গ্রেনেড হামলায় সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ ৫ জন নিহত এবং কমপক্ষে শতাধিক লোক আহত হন। উক্ত হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত শফিকুর রহমান কিবরিয়া হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামী বলে জানা যায়। গ্রেফতারকৃত আসামি মুফতি শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় সর্বমোট ৬টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা এবং ২০০৫ সালের ২৭শে জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর থানাধীন বৈদ্যের বাজারে গ্রেনেড হামলায় সাবেক অর্থ মন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ ০৫ জন নিহত এবং কমপক্ষে শতাধিক লোক আহতের ঘটনায় সে সম্পৃক্ত ছিল। ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত রমনা বটমূলে হামলার পর সে আত্মগোপনে থেকে সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থাকে। অতঃপর ২০০৮ হতে নরসিংদীতে একটি মাদ্রাসায় অবস্থান করে আত্মগোপনে চলে যায়।

গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান র‍্যাবের কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

শেয়ার করুন
More News Of This Category

Dairy and pen distribution

ডিজাইনঃ নাগরিক আইটি ডটকম
themesba-lates1749691102