বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:২০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নারী নেতৃত্ব বিশ্বকে উজ্জ্বল করেছে, ইডেন করেছে কলংকৃত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিনে নুরে আলম সিদ্দিকী হক শুভেচ্ছা রাজধানী মোহাম্মদপুর থানার ৩৩ নং ওয়ার্ড কৃষক লীগের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নদ-নদী রক্ষায় পানি লুন্ঠন ঠেকাতে হবে : বাংলাদেশ ন্যাপ লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্টন ঝিনাইদহে সাপের কামড়ে প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু মহা মায়া দুর্গার আগমন উপলক্ষে মন্দিরে মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মহা প্রস্তুতি বিএনপি কতকাল আওয়ামী লীগের খেলার পুতুল হবে? রাজনীতির জন্য নিজস্ব কিছু অর্জন থাকতে হবে  ক্রিড়াঙ্গনের নিলজ্জ্বতা আবার দেখতে হলো বাঙালি জাতিকে ব্যাক্তিত্ব ছাড়া নেতৃত্ব, জনসমর্থন ছাড়া কোনো জান্তাই ইচ্ছেতন্ত্র চালাতে পারবে না মিয়ানমার

বিসমিল্লাহ শরীফের বরকতঃ মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৩৫ দেখা হয়েছে

নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে কাজ আল্লাহর নামে আরম্ভ করা না হয়, উহা লেজকাটা, উহার পরিণাম শুভ ও কল্যাণময় হয় না। আমরা যে কোন ভাল কাজ শুরু করবো আল্লাহর নামে, অর্থাৎ বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করবো। বিসমিল্লাহ শরীফের বরকত অনেক বেশী, ইহতে রয়েছে অনেক গুরুত্ব ও তাৎপর্য । আমরা যদি যে কোন ভাল কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ শরীফ পড়ি, তাহলে সেই কাজের অনেক সফলতা আসবে। প্র্রিয় পাঠক, আমরা বিসমিল্লাহ শরীফের ফজিলত ও তাৎপর্য সম্পর্কে জানবো, ইনশাআল্লাহ।

বিসমিল্লাহ শরীফের মধ্যে আল্লাহর তিনটি বিশেষ নামঃ

আল্লাহ তায়ালার রয়েছে অনেক পবিত্র নাম। বিসমিল্লাহ শরীফের মধ্যে আল্লাহর তিনটি নাম উল্লেখ করা হল। গভীরভাবে চিন্তা করলে বুঝা যায় এই তিনটির নামের সাথে অনেক কিছু সম্পর্ক আছে। যেমন মানুষের জীবনেও তিনটি অবস্থা দেখা দেয়, বাল্যকাল, যৌবন ও বার্ধক্য। সমাজের মধ্যে মানুষের মর্যাদার তিনটি স্তর রয়েছে। আমিরী গরিবী বা ফকিরী। জগতের তিনটি স্তর রয়েছে, ইহজগত মধ্যবর্তী জগত ও পরজগত। কাল বা সময়েরও তিন ভাগ, জীবনকাল, নিদ্রাকাল ও মৃত্যুকাল। আসলে আল্লাহ তা’আলার এই তিনটি নামের সাথে অনেক কিছু সম্পর্ক, তাই আল্লাহ তা’আলা নিজের নাম বিসমিল্লাহ শরীফের মধ্যেও উল্লেখ করিয়াছেন।

বিসমিল্লাহ এর চারটি শব্দ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম এই বাক্যটি খুব চমৎকার, এই বাক্যটির মধ্যে চারটি শব্দ আছে। একটু ব্যখা করলে বুঝা যায় এই চারটি শব্দের সাথে অনেক কিছু মিল রয়েছে। দেখা যায় বৎসরের ঋতু প্রধানত চারটি- বসন্ত, হেমন্ত, শীত ও গ্রীষ্ম। মানব সৃষ্টির মৌলিক উপাদান চারটি- আব, আতশ, খাক, বাদ। অর্থাৎ পানি, আগুন, মাটি ও বাতাস। জীবদেহের মৌল-উপাদান চারটি- অম্ল, পিত্ত, কফ ও রক্ত। আত্মার পবিত্রতা চারিটি জিনিসে- নামায, রোযা, হজ্ব এবং যাকাত। দুনিয়ার বস্তুসমূহের অবস্থা চার প্রকার- গরম, ঠান্ডা, শুষ্ক ও আর্দ্র। মানুষের বাতেনী ইছ্লাহ চারটি বস্তুর মাধ্যমে- বুদ্ধি, বিদ্যা, আশা এবং ভয়। যত কওল আছে, তার মধ্যে সেরা হল চারটি- সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার। ফেরেশতাকুল মধ্যে চারজন প্রধান- জিবরাঈল, মিকাঈল, আজরাঈল ও ইসরাফীল। আসমানী কিতাবসমূহের মধ্যে চারটি প্রধান- তাওরাত, যাবুর, ইনজিল ও কোরআন। আমবিয় আলাইহিস সালামের চারটি উপাধি প্রধান- খলীল, কলীল, রূহ ও হাবীব। খেলাফায়ে ইসলাম-এর মধ্যে চারজন প্রধান- আবু বকর সিদ্দীক, ওমর ফারুক, ওসমান গনী এবং আলী মোরতজা। আসলে দুনিয়ায় সব কিছুর সাথে চারটির সংখ্যার মিল রয়েছে। সুতরাং আল্লাহ তা’আলা তাঁহার সমস্ত বাণী উপস্থাপনায় করেছেন বিসমিল্লায় বর্ণিত চারটি শব্দের মধ্যে। সুবাহানাল্লাহ।

বিসমিল্লাহ শরীফের ফজিলত

আমীরুল মো’মেনীন হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) হইতে বর্ণিত, হযরত নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যাক্তি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পাঠ করে, আল্লাহ তা’আলা তাহার নামে দশ হাজার নেকী লিপিবদ্ধ করেন, তাহার দশ হাজার গুনাহ্ মাফ করিয়া দেন এবং তাহার মর্যাদা দশ হাজার স্তর উন্নীত করেন। সুবাহানাল্লাহ।

হযরত নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি একবার বিসমিল্লাহ শরীফ পাঠ করে, তাহার সামান্য পরিমাণ গুনাহও অবশিষ্ট থাকে না- সমস্ত গুনাহ মাফ হইয়া যায়। অবশ্য সমস্ত ‘সমস্ত গুনাহ’ বলিতে কেবল ছগীরা গুনাহই বুঝায়। কেননা কবীরা গুনাহ খাঁটি তওবা ছাড়া মাফ হয় না।

হযরত নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যখন কোন ব্যক্তি বিসমিল্লাহির রাহীম পাঠ করে, তখন শয়তান এমনভাবে গলিয়া যায় যেমন আগুনে সীসা গলিয়া থাকে। সুবাহানাল্লাহ।

হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) হইতে বর্ণিত, হযরত নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, আদম সন্তানেরা যখন পায়খানা-প্রস্রাব কিংবা স্ত্রী সহবাসের উদ্দেশ্যে শরীরের গুপ্তাঙ্গ অনাবৃত করে তখন জিন, শয়তান তাহাদের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং তাহাদের জ্বালাতন করে, কিন্তু গুপ্তাঙ্গ অনাবৃত করার কালে বিসমিল্লাহ পাঠ করিলে, স্ত্রী হইক কিংবা পুরুষ- তাহাদের এবং জিন শয়তানের মাঝখানে একখানি পর্দা পড়িায়া যায়, ফলে তাহাদের দেহ বা তাহাদের কাজে হস্তক্ষেপ করা শয়তানের পক্ষে সম্ভব হয় না।

সাহাবায়ে কেরামের উক্তিঃ

হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) বলেন, যে বিসমিল্লাহ পাঠ করে, তাহার জন্য বড়ই খোশ খবর। কেয়ামতের দিন সে বেহেশতের অফুরন্ত নেয়ামতের মধ্যে কি আনন্দের সঙ্গেই না ডুবিয়া থাকিবে! জান্নাতে সে অশেষ নেয়ামতের অধিকারী হইবে।

হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) বলেন, বিসমিল্লাহ শরীফ এমনই ফযীলতময় কালেমা, যাহা না থাকিলে সমগ্র বিশ্বজগত ধ্বংস হইয়া যাইত, হইার বরকতেই সারাজাহান টিকিয়া আছে।

হযরত উসমান বিন জিন্নুরাইন (রাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি সারা জীবনের মধ্যে অন্তত একবার বিসমিল্লাহ পাঠ করলে, তাহার অতি সামান্য পরিমাণ পাপও অবশিষ্ট থাকে না। সুবাহানাল্লাহ।

রোম সম্রাটের কাহিনী

ছওলতে ফারুকী নামক কিতাবে আছে, রোম সম্রাট কায়সার ইসলাম গ্রহণের পর একদা আমীরুল মোমেনীন হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)- এর সমীপে এই আর্জি পেশ করিলেন, হুযুর! সব সময় আমার ভীষণ মাথাব্যথা থাকে, চিকিৎসার অনেক চেষ্টা করিয়াছি, কিন্তু কোনই ফল হয় নাই।

সম্রাটের এই আরজনামা পাইয়া হযরত ওমর (রাঃ) একটি কাল টুপি সেলাই করাইয়া দিলেন। আমীরুল মোমেনীনের তরফ হইতে একটি টুপি আসিতেছে এই সংবাদ পাইয়া সম্রাট খাছ নিয়তে ভক্তিভরে কিছু পথ আগাইয়া গেলেন এবং পরম শ্রদ্ধার সহিত সহিত টুপিটি গ্রহণ করিয়া মুকুটের মত স্বীয় মস্তকে পরিধান করিলেন আর অমনি তাঁহার দীর্ঘদিনের মাথাব্যথা দূর হইয়া গেল। যতক্ষণ টুপিটি তাঁহার মস্তকে শোভা পাইত, ততক্ষণ তিনি আরামে থাকিতেন। আর যখনই উহা মাথা হইতে খুলিয়া রাখিতেন, তখন আবার মাথাব্যথা আরম্ভ হইত। এই অবস্থা দেখিয়া সম্রাট বিস্মিত হইলেন, এবং খুঁজিতে লাগিলেন- টুপির এই মাহাত্ম্যের আসল রহস্য কোথায়! খুঁজিতে খুঁজিতে তিনি দেখিলেন, টুপির সঙ্গে এক টুকরা কাগজ জড়ানো এবং উহাতে বিসমিল্লহির রাহমানির রাহীম কথাটি লিখিত রহিয়াছে।

বুঝা গেল, বিসমিল্লাহ শরীফের বরককতে ব্যথা-যন্ত্রণা এবং সকল রোগও নিরাময় হইয়া থাকে। হযরত মাওলানা রুমী মসনভীতে বলেনঃ তাসমিয়া আমদ এলাজে হার মারাজ, গুদরাওয়া হারকাস কে খানাদ হার গারাজ। অর্থাৎ, বিসমিল্লাহ শরীফে হইল যাবতীয় রোগের মহৌষধ, যেই ব্যক্তি ইহা পাঠ করিবে, তাহার সকল মকছুদ পূর্ণ হইবে। আসুন আমরা যে কোন ভাল কাজের শুরুতে বেশী বেশী বিসমিল্লাহ শরীফ পড়বো এবং বরকত লাভ করবো।

লেখকঃ আলেম, প্রাবন্ধিক।
সাইফুল
সাইফুল ইসলাম সালেহী

শেয়ার করুন

এই ধরনের আরও খবর...

Dairy and pen distribution

themesba-lates1749691102