June 17, 2024, 4:37 pm
শিরোনামঃ
ত্যাগের মহিমায় রাজধানীতে মহল্লায় মহল্লায় চলছে পশু কোরবানি রাজধানীতে মহল্লায় মহল্লায় চলছে পশু কোরবানি পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট শেখ জামাল হোসেন মুন্না পবিত্র ঈদ-উল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আলহাজ্ব মোঃ রেজাউল করিম সেন্টমার্টিন পরিদর্শনে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর থাকার নির্দেশ:  বিজিবি মহাপরিচালক   ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনারকে হত্যার আগে ২৫ বার বৈঠক করেন শাহীন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন এবং পুরস্কার বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মোঃ জাফর ইকবাল (বাবুল) পবিত্র ঈদ-উল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মোঃ সাইফ ইসলাম শুভ পবিত্র ঈদ-উল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মোঃ ইব্রাহিম খান তুষার

পর্ব ৭৯: “যে ইতিহাসটি বলা দরকার” : এডভোকেট খোন্দকার সামসুল হক রেজা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : Saturday, May 7, 2022
  • 231 Time View
cloudscape in the morning

এডভোকেট খোন্দকার সামসুল হক রেজাঃ

আব্বা ৩২ নম্বরের, বঙ্গবন্ধুর বাড়ী থেকে বেড় হয়ে, বিষয়টা ফজলুর রহমান রাজু ভাইকে জানিয়ে, ঐ দিনই ঢাকা থেকে পটুয়াখালী চলে আসেন। আব্বার মন খুব খারাপ, অন্যদেরও মন খারাপ , তারপরও আমরা পুরোদমে ৭৩ এর সংসদ নির্বাচনী প্রচারে নেমে গেলাম। হটাৎ পরদিনই পটুয়াখালীতে তে টেলিগ্রাম আসে, তাজউদ্দিন আহমেদ সাহেব ১ দিন পর হেলিকপ্টারে বাউফল আসছেন এবং জনসভার প্রস্ততি নেয়ার জন্য বলা হল। চারিদিকে খুশির প্রলয় শুরু হয়ে গেলো। বাউফলের নির্বাচনী আবহাওয়াই বদলে গেলো। তাজউদ্দিন সাহেব একদিন পরেই হেলিকপ্টারে বাউফল আসলেন, প্রচন্ড বৃষ্টি বাদলের মাঝে বিরাট জনসভা হলো। দলের নেতাকর্মীদের বিপুল উত্সাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হলো। তাজউদ্দিন সাহেব ঐ মিটিং শুরু হওয়ার আগেই, আব্বাকে সেদিনকার ঢাকার ঘটনা বলেন এবং পরবতী কালে রাজু ভাইর কাছেও বিস্তারিত শুনেছি। ঐ দিন আব্বা, বঙ্গবন্ধুর বাড়ী থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দিন সাহেবকে এবং কলাবাগানের রাজু ভাইকে, তার বাসায় আসতে বলেন এবং ঐদিন বিকেলে তাজউদ্দিন সাহেব এবং রাজু ভাই বঙ্গবন্ধুর বাড়ীতে যান। তাজউদ্দিন সাহেব বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করা মাত্রই, বঙ্গবন্ধু তাকে বললেন, পটুয়াখালীর আজিজ খন্দকার এসেছিল, সে ক্ষেপে গেছে, তাকে থামাও। তখন বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দিন সাহেব ও রাজু ভাইকে ভোরের আব্বার ঘটনা বললেন। বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দিন সাহেবকে বললেন, ২/১ দিনের মইধ্যে বাউফলে একটা মিটিং করে দিয়ে আসো। তাজউদ্দিন সাহেব, বঙ্গবন্ধুকে বললেন, তারতো কোনো তারিখ ফাকা নেই, সব তারিখের মিটিং এর শেড্যুল হয়ে গেছে। তখন বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দিন সাহেবকে বললেন, হেলিকপ্টার নিয়ে যাও, ১ ঘণ্টার জন্য মিটিং করে আসো। তখন তাজউদ্দিন সাহেব পটুয়াখালী যেতে সম্মত হন এবং সেই মোতাবেকই পটুয়াখালীতে টেলিগ্রাম পাঠানো হয়। অতপর তাজউদ্দিন সাহেবের বাউফল যাওয়া। ঐ নির্বাচনে আব্বা বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করেন। বঙ্গবন্ধু যে কত উচু মাপের মানুষ ছিলেন, সেটির একটি ছোট ঘটনা আনলাম মাত্র। বঙ্গবন্ধুর জীবনে এর চেয়ে অনেক বড় বড় ঘটনা আছে। সে জন্যই তিনি বঙ্গবন্ধু, সে জন্যই তিনি জাতিরপিতা। প্রসঙ্গটি এজন্য আনলাম, আজকে আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করি, জননেত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ করি, তারা কোনটা করতে পরি, কোনটা করতে পরি না বা কোনটা বলতে পারি বা কোনটা বলতে পারিনা, তাও যেন ভুলে গেছি বা ভুলানো হচ্ছে। একদিকে করোনায়,সমগ্র জাতি, প্রতি মুহুর্তে আতঙ্কে, অথচ অনেক দায়িত্তশীল নেতৃবৃন্দ, যে সব করছেন, তাকি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নেতা বা কর্মী বা আওয়ামী লীগ বা তার সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ করতে পারেন !। কিছুদিন পূর্বে নোয়াখালী এবং বর্তমানে ঢাকায় অনেক নেতাগন , পত্রপত্রিকা, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মানুষ পারে কিনা, তাও এখন মিলাতে পারছি না। অনেকদিন ধরেই দেখ্ছি, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনের অনেকজন বক্তব্য দিচ্ছেন, যার বেশিরভাগই আমাদের সরকার এবং দলের বিপক্ষে যাচ্ছে এবং এ নিয়ে কেউ কোন বিপরীত কথা বলছেন না। এখানে একটি বিষয় আনবো। প্রায় ৪ বছর আগে, আমি তখন বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাধারন সম্পাদক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গনভবনে সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে একটি মত বিনিময় সভা করেন। আমাদের দাবী ছিল প্রতিমাসেই যেন এধরনের সভা হয়, যেখানে আমরা সাংগঠনিক সমস্যা ও সমাধান নিয়ে আলোচনা করবো। ঐটা ছিলো প্রথম সভা। আওয়ামী লীগের মাননীয় সাধারন সম্পাদক সাহেবও ঐ সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সবাইকে খোলাখুলি আলোচনা করতে বললেন। বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের, প্রায় সকলেই আলোচনা করলেন এবং বেশিরভাগ নেতৃবৃন্দ সরকারের উন্নয়ন নিয়ে বক্তব্য রাখেন। কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা বক্তব্য দেয়ার পর আমার আর কথা বলার ইচ্ছা ছিল না। তারপরও খুব জড়তা নিয়ে, আমি দাড়িয়ে বললাম, মাননীয় নেত্রী, আমি একটু ভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই। নেত্রী সাথে সাথে বললেন, বলো বলো। আমি এভাবে বলতে শুরু করি,” মাননীয় নেত্রী,আপনার সরকারের উন্নয়ন নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বক্তব্য দেয়া যাবে, কিন্তু আপনার দলের অনেক নেতৃবৃন্দ এবং সরকারের অনেক মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়গন মাঝে মাঝে এমন কিছু বক্তব্য রাখছেন,যাতে আমাদের দলের এবং সরকারে ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এবং যে গুলো নিয়ে, বিভিন্ন টেলিভিশন মিডিয়ায়, প্রতিদিন রাতে টকশো হচ্ছে। তাই মাননীয় মন্ত্রী ও সচিবদের মতো আমাদেরও লাল টেলিফোন দিয়ে দেন এবং যখনই আমরা ঐ ধরনের নেগেটিভ কথা বলবো, তখন আমাদের লাল ফোন দিয়ে বলে দিবেন, ডোন্ট ফরওয়ার্ড “। আমার কথা গুলো শুনে বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ নেত্রীর দিকে তাকাচ্ছেন, তিনি কথাগুলো কি ভাবে নিলেন। নেত্রী সাথে সাথে বললেন, আমি তাদের গনতন্ত্র দিয়েছি, দেখি তারা কি বলতে পারে। তখন সবাই হেসে উঠলেও, তখন নেত্রীর কথাগুলো বুঝিতে পারিনি। যদিও ইদানিং কিছু কিছু বুঝতে পারছি। পরবর্তী কালে বিভিন্ন ব্যস্ততার কারনে, নেত্রী ঐ ধরনের সভা আর করেননি। ইদানিং বিভিন্ন নেতাদের, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কথাবার্তা শুনে, সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন কথা দেখে, মানণীয় নেত্রীর, গনভবনের সেদিনকার কথাগুলো খুব বেশী মনে পড়ছে এবং হিসাব মিলানোর চেষ্টা করি, আসলে কি হচ্ছে এখন, কোথায় যাচ্ছি আমরা !।(ক্রমশঃ) এডভোকেট খোন্দকার শামসুল হক রেজা, সাবেক সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ কৃষক লীগ। ১ জুলাই ‘ ২০২১

শেয়ার করুন
More News Of This Category

Dairy and pen distribution

ডিজাইনঃ নাগরিক আইটি ডটকম
themesba-lates1749691102