May 24, 2024, 11:58 pm
শিরোনামঃ
শৈলকুপার এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা এমন যদি হতোঃ কবি মোঃ খোকন খান ইন্টারন্যাশনাল আইকনিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডে মনোনীত ডেইজী সারোয়ার জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফোরামের কমিটি গঠন সাংবাদিককে হেনস্থাকারী ছাত্রলীগ নেতার বিচার চায় বিডিজেএ ঘটনার সময় বাংলাদেশে ছিলাম, আমাকে ফাঁসানো হয়েছে : আক্তারুজ্জামান শাহীন বাবাকে নিয়ে এমপি আনারের মেয়ে ডরিন আবেগঘন স্ট্যাটাস বাবার হত্যার বিচারে চাইলেন মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন মৎস্যজীবী লীগের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিখোঁজ ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের ‘লাশ’ কলকাতা থেকে উদ্ধার

পর্ব ৭৪: “যে ইতিহাসটি বলা দরকার” : এডভোকেট খোন্দকার সামসুল হক রেজা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : Sunday, April 3, 2022
  • 181 Time View
এডভোকেট খোন্দকার সামসুল হক রেজাঃ
লেখালেখি একরকম বন্ধই করে দিয়েছিলাম। একদিকে করোনা প্রকট, আবার কোন কাজ নাথাকার কারনে, মনও ভালো থাকে না। কিন্ত চারিদিকে অনেকগুলো অসামঞ্জ্শ্য ঘটনায় কিছু না বলেও থাকা যায়না। একদিকে দেশে লকডাউন চলছে, অন্যদিকে হাজার মানুষ, রাস্তাঘাটে, বাজারে, ফেরী ঘাটে যে ভাবে ভীড় করছে, সরকারি অফিসগুলো বন্ধ আর বেসরকারী অফিস, বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান খোলা। সবই কেমন বৈপরীত্য লক্ষ করতে হচ্ছে। এইতো কদিন আগে প্রখ্যাত ব্যাবসায়ী গ্রুপ বসুন্ধরার ছেলের বিষয় নিয়ে যে হূলস্থূল কান্ড ঘটে গেলো এবং যেটা নিয়ে এখন প্রায় সকেলেই নীরব। মুনিয়ার আত্মহত্যা বা খুন নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন কথা চলছে, বসুন্ধরার সেই এমডি দেশে কিম্বা বিদেশে চলে গেছে, সে নিয়েও সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন কথা বলছে। ঐ ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার বিপক্ষেও অনেক কথা চলছে। ঐ ঘটনা নিয়ে,একটি পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনেকেই বেশ কিছু মারাত্মক লেখালেখি করেছে। কেউ সিরিয়াস পক্ষে, কেউ বিপক্ষে। আমার একজন কাছের মানুষ ঐ সম্পাদক সাহেবের বিপক্ষে, ঐ কথাগুলো শেয়ার করায়, তাকে ফোন করে বলেছি,তুমি এধরনের লেখায় শেয়ার করোনা। আর ঐ ফেসবুক বা ইউটিউবের কথা বা লেখালেখি বেশিরভাগই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের মানুষজনই বেশি। কেউ মারাত্মক পক্ষে, কেউ মারাত্তক বিপক্ষে। তাই বলছিলাম সব কিছুই যেন কেমন হয়ে যাচ্ছে। কদিন আগে আমাদের এলাকার একজন কৃষক লীগ নেতা হটাৎ করেই মারাত্তক বুকের ব্যথা নিয়ে এম্বুলেঞ্চে ঢাকার একটি বড় হসপিটালে ভর্তী হয়। তাকে দেখ্তে ঐ হসপিটালের আই সি ইউ এর সামনে গেলাম, যেখানে সে ভর্তি আছে। ঐ রোগীর ভাইয়ের কাছে কিছু আর্থিক সাহায্য দিয়ে আমি চলে আসবো। তখন ঐ রোগীর ভাই আমাকে বললো, টাকাটা আমি যেন রোগীর হাতেই দেই। সে খুব খুশি হবে। আমার ১৫ জন, খুব নিকট আত্তীয় ডাক্তার থাকার পরেও আমি সাধারনত আই সি ইউ বা সি সি ইউ তে ঢুকিনা। তারপরও ওদের বলার কারনে আমি ঐ রোগীর ভাইকে বললাম, গেটম্যানকে আমার কথা বলো, আমি এক মিনিটের জন্য ভিতরে যাবো। তখন ঐ আই সি ইউর গেটম্যান যে আচরণ করলো, তাতে রীতিমতো আশ্চর্য হলাম, কোথায় যাচ্ছি আমরা । সে এভাবে বললো, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বললেও ঢুকাবো না। আমার যে কি অবস্থা তখন। আসে পাশে দাড়ানো লোক গুলো মারমুখী হয়ে পরলো। আমি বললেই তারা মারা শুরু করবে। আমি অনেক ধৈর্য ধারন করে ওখান থেকে চলে আসলাম,একটা গেটেকিপারের সাথে ঝগড়া করবো, অথচ ওরকম কথা সহ্য করার লোক আমি না। ওর সাহস, না বোকামি বা অন্য কিছু আমি বুঝতে পারিনি। আজ থেকে ২ যুগ আগের, একটি একি ধরনের প্রসঙ্গ বলছি। আমার ছোট ভাই, নাটোর সুগার মিলে অফিসার হিসেবে চাকরি করতো। অনেকদিন সেখানে ছিলো। ৯৬ সনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে, আমি তাকে ঢাকায় বদলির জন্য বলি। ওর পরিবার নিয়ে ওখানে ভালো ভাবে থাকতে পারছিল না তাছাড়া ওর বাচ্চাদের পড়াশুনারও সমস্যা। আমি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর, ঐ সময়ের এডভাইজার এবং একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের সম্পাদক,আমার কাছের মানুষ, তার কাছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্য্যালয় গেলাম এবং তিনি সাথে সাথে ঐ সময়ের সুগার এন্ড ফুডের, চেয়ারম্যানকে ফোন করে বলে দিলেন। আমি খুশি হয়ে,পরদিনই মতিঝিল সুগার এন্ড ফুডের হেড অফিসে গেলাম এবং চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে দেখা করলাম। তাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এডভাইজার সাহেবের ফোনের কথা বললাম। এরপর ঐ চেয়ারম্যান সাহেব আমকে যা বললেন,তা শুনে আমার ঐ একই অবস্থা। ভাগ্যিস তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ি না, আর ওনাকেও ঐ গেটম্যনের মত কম শিক্ষিত মনে হয়নি। অনেক ধৈর্য্যধারন করে চলে আসি। হা ঐ ভদ্রলোক এভাবে বলেছিল, “স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বললেও আপনার ভাইকে ঢাকায় বদলি করবো না “।
কত মারাত্মক কথা। আমি পরদিনই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অফিসে এডভাইজার সাহেবের কাছে গেলাম এবং ঘটনাটি বললাম। তিনি আমাকে হতাশ করে বললেন, কিছু ঘাড়তেরা অফিসার আছে,এরকম করে। তুমি কিছুদিন পরে আসো। না হলো, ঐ চেয়ারম্যানের শিক্ষা না হলো আমার ভাইয়ের বদলি। মন খারাপ করেই কিছুদিন পর আমার কাছের আরেক একজন মানুষ, মাননীয় মন্ত্রীর অফিসে গেলাম। তার কাছে আগের ঐ ঘটনাটি বলিনি। শুধু বললাম, আমার ভাইর খুব অসুবিধা, তাকে ঢাকায় বদলি করাতে হবে। তিনি সাথে সাথে ঐ চেয়ারম্যানকে ফোন করে বললেন আমার পটুয়াখালীর আজিজ ভাইয়ের ছেলে, ঢাকায় হেড অফিসে বদলি করার ব্যাবস্থা করেন। এটুকুই। আমি বিদায় নিয়ে চলে আসলাম এবং পরদিন মতিঝিলে ইচ্ছে করেই চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে গেলাম, দেখি উনি কি করে। এবার কতো আদর। চায়ে আদেশ করলেন। বললেন, কিছু ফর্মালিটিস আছে, সে গুলো সেরেই ঢাকায় নিয়ে আসবো, আপনার আর আসতে হবে না। ঠিকই মাত্র ৫ দিনের ব্যবধানে আমার ভাইয়ের ঢাকায় বদলির আদেশ হয়।আমার ৪ বছরের ছোট ঐ ভাইটি চাকুরি অবস্থায় বছর ৩ আগে কিডনি রোগে মৃত্যবরন করেছে । ভাইটির একথাগুলো এজন্য আনলাম, এরকম বিষয়গুলো কেন ঘটছে এবং এখনো। কেউ কি দেখার নেই, কেউ কি শোনার নেই। ইউটিউবে এবং ফেচবুকে প্রতিনিয়ত যা হচ্ছে, দুয়েকজন নেতারা যা বলছেন, স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত। না কোন নীতিমালা মানছে না গঠনতন্ত্র মানছে, না শিষ্টাচার মানছে। অথচ এমনটি সাধারত আগে দেখা যেত না। আমার আওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতাদের সাথে চলার অভিজ্ঞতা ছিল, তাদের মইধ্যে এক সময় গ্রুপিং ছিল, কিন্ত কখনো তাদের মইধ্যে কোন ব্যক্তিগত আক্রমণ দেখিনি। এখন নিয়ন্ত্রনহীন ভাবে চলছে অনেক কিছু। অনেকেই দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, কি নিরন্তন ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন দেশের জন্য, মানুষের জন্য। ক্রমশঃ এডভোকেট খোন্দকার শামসুল হক রেজা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশে কৃষক লীগ।১০ মে,২০২১
শেয়ার করুন
More News Of This Category

Dairy and pen distribution

ডিজাইনঃ নাগরিক আইটি ডটকম
themesba-lates1749691102