June 24, 2024, 8:52 pm
শিরোনামঃ
১৪ জেলায় নতুন পুলিশ সুপার আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ঢাকা মহানগর উত্তর মৎস্যজীবী লীগের শ্রদ্ধা পর্ব ১০৯: “যে ইতিহাসটি বলা দরকার” : এডভোকেট খোন্দকার সামসুল হক রেজা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মোঃ নুরে আলম সিদ্দিকী এর শুভেচ্ছা আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাজেদুল ইসলাম এর শুভেচ্ছা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মোঃ জাফর ইকবাল (বাবুল) এর শুভেচ্ছা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৩১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি সভা ১৫ লাখ টাকায় ছাগল কেনা ইফাত আমার ছেলে নয়: রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন এমপিকে ফুলের শুভেচ্ছা জানালেন রামপুরা থানা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ কাঁঠাল খাওয়ার উপকারিতা

পর্ব ৫১ :- ”যে ইতিহাসটি বলা দরকার” : এডভোকেট খোন্দকার সামসুল হক রেজা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : Friday, December 17, 2021
  • 166 Time View

এডভোকেট খোন্দকার সামসুল হক রেজাঃ

” যা বলছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা। সেই লালবাগ শায়েস্তা খান কল্যান কেন্দ্রে,১৯৭৫ পরবর্তীতে বাংলাদেশে ছাত্রলীগের প্রথম কাউন্সিল এর কথা। বাহিরে সামরিক স্বৈরাচার জিয়াউর রহমানের পুলিশ বাহিনী, ভিতরে সারা বাংলাদেশ থেকে আসা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। টান টান উত্তেজনা, কারা নতুন সভাপতি সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন। একদিকে ফজলুর রহমান ও খ ম জাহাঙ্গির ভাইর প্যানেল আর অন্য দিকে মস্তোফা জালাল মহিউদ্দিন ভাইয়ের প্যানেল। মিটিং শুরুর পর মিটিংয়ে কোন নিয়ন্ত্রণ রাখা যাচ্ছিল না। এরই মইধ্যে হটাৎ মঞ্চে আসেন কিশোরগঞ্জ এর ফজলুর রহমান ভাই,যিনি সভাপতি প্রার্থীও। তিনি একটি বিপ্লবী বক্তব্য রাখলেন, যার পুরো অংশ জুড়ে বঙ্গবন্ধু নিয়ে এবং জিয়ার সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে। তার বক্তৃতা সবার মন ছুয়ে যায়, সবাই তার প্রশংসা শুরু করেন। অথচ, সেই ফজলুর রহমান , এখন বি এন পি করেন। তাও আবার একটা জেলা কমিটির সভাপতি। মানুষ কত কি পারে। যার বক্তৃতা আমরা নির্বাচনের মাঠে বাজিয়েছি অথচ তখন তিনি সামরিক গর্ভে জন্ম নেয়া একটি দলে যোগ দিলেন। আদর্শকে ধারণ করলে, আপনি একা একা বঙ্গবন্ধুর কথা বলতেন, একা একা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতেন, একা একা সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। অথচ তিনি করলেন ঠিক উল্টোটা। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা কোরবান আলি সাহেব সকালে, সদরঘাটের কাছে বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে এরশাদের বিরুদ্ধে জালাময়ী বক্তব্য রাখলেন, আবার ঐদিন রাতেই তিনি এরশাদের মন্ত্রীসভায় শপথ নিলেন। না আমি সেলুকাসের উধাহরন দেবো না। এরকম অনেকেই করছেন, আরো মারাত্তক আকারে। হয়তো এটাই নিয়তি। আমার বন্ধু মিহির লাল সরকারের কথা, “কেউ মিষ্টি খেলে চর্বি হয় আবার কেউ মিষ্টি খেলে কৃমি হয়”। এবার কাউন্সিলের কথায় আসি।কমিটি গঠন নিয়ে শ্লোগান পাল্টা শ্লোগান চলছে। কোন ভাবেই সভার নিয়ন্ত্রণ রাখা যাচ্ছে না। এরই মইধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জনাব আব্দুর রাজ্জাক ভাইয়ের পক্ষ থেকে এম এ আউয়াল কে সভাপতি এবং মস্তোফা জালাল মহিউদ্দীন কে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। তখন শুরু হয়ে যায় শ্লোগান পাল্টা শ্লোগান। মিটিং ওভাবেই অব্যাবস্থাপনার মইধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এর পর থেকে ছাত্রলীগ দুই ভাগে চলতে থাকে, দুই নেত্রীত্ত্বে। যদিও আমাদের দিধা বিভক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মহানগর এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে যেকোনো অন্দোলন সংগ্রামের কায্যক্রম আমরা একত্রেই করতাম। ঐ সময় বিশেষ করে ১৫ অগাস্ট জাতীয় শোক দিবসে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বড় ধরনের কর্মসূচি থাকতো। কারন ঐ সময় বি এন পি সরকার, ১৫ অগাস্ট এর কর্মসূচী নিয়ে সবসময় ভয় থাকতো এবং খুব কড়াকড়ি ভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতো। একবার এক বড় প্রগ্রামের কথায় আসছি, সম্ভবত ৭৯ সনের অগাস্ট এর ১৫ তারিখ । ঐদিন আমাদের বড় ধরনের জমায়েত ছিলো। জগন্নাথ কলেজ, জাহাঙ্গির নগর বিশ্ববিদ্যালয় , ঢাকা মহানগর সহ বিভিন্ন কলেজ থেকে ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় একত্র হন। অপর দিকে পুলিশ প্রশাসন এবং ছাত্রদলের নেতারাও আমাদের প্রোগ্রাম ঠেকাতে চেষ্টা করেন। ঐ সময় হাইহিল জুতা পরার একটা প্রচলন ছিল। খাটো মানুষ হিসেবে আমিও হাইহিল পড়তাম। ঐ ছাত্র বিক্ষভে আমি হাইহিল পরেই মিছিলে যোগ দেই। মিছিল শুরু হওয়ার সাথে সাথে একদিকে ছাত্রদল অন্যদিকে পুলিশের বাধা। আমরা লাইব্রেরির গেট দিয়ে টি এস সির দিকে যাবো। চারিদিকে উত্তেজনা তারপরও আমাদের মিছিলের গতি আরো বেড়ে যায়। হাইহিলের কারনে হটাৎই আমি ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়ে যাই, পায় খুব ব্যথা পাচ্ছিলাম। একদিকে ছাত্রদল আর পুলিশের ধাওয়া, অন্যদিকে আমি কোথায়ও বসে পড়তে পারছি না, আবার কোথায়ও বশে পড়লে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার বা ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের হামলার স্বীকার হব। ঐ সময় আমাকে একদিকে সালাম ভাই ( বর্তমানে মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) এবং ওপর আরো ২ জন নেতা, যাদের নাম এই মুহুর্তে স্মরণে আসছে না, তারা আমাকে মোটামুটি উচ্কিয়ে মিছিলের সাথে নিয়ে যায়। এবিষয় ঐ সময় সবাই আমাকে অনেক সহানুভূতি দেখিয়েছেন। ঐ ঘটনার পর হাইহিল জুতা পড়া ছেড়ে দেই। তখন এরকম অনেক কষ্টের মাঝেও আনন্দ পেতাম। সিনিয়র নেতারা, সহ কর্মীরা,সব সময়,সব ব্যাপারে সহযোগিতা করতেন। আসলে তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রাজনীতি অনেক ভাল ছিল। তখনকার সময়ের সকল ছাত্রনেতা গন যেটা এক বাক্যে স্বীকার করেন আশাকরি।(ক্রমশঃ) খোন্দকার শামসুল হক রেজা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ কৃষক লীগ। ২৩ ডিসেম্বর ‘২০২০

শেয়ার করুন
More News Of This Category

Dairy and pen distribution

ডিজাইনঃ নাগরিক আইটি ডটকম
themesba-lates1749691102