May 19, 2024, 5:32 pm
শিরোনামঃ
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে মৎস্যজীবী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা বিচার ব্যবস্তার সুচনার ইতিহাস জানিনা, বিতর্কের শেষ কোথায় ? বুঝতে পারছি না বঙ্গ কণ্যার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও বাংলার মাটি কে বুকে ধারন, ইতিহাসের অংশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি পাঠাগারের কমিটি গঠন জহির সভাপতি ও লিটন সাধারণ সম্পাদক গাজায় নিজেদের গোলার আঘাতে পাঁচ ইসরায়েলি সেনা নিহত তালের শাঁস খেলে যেসব উপকার হয় ঢাকা শহরে কোনো ব্যাটারিচালিত রিকশা চলবে না: ওবায়দুল কাদের বিশ্বাস পুনর্নির্মাণের জন্য আমি বাংলাদেশ সফর করছি: ডোনাল্ড লু ভারতবর্ষে হিন্দু মুসলমানের রাজনীতি হয়,মহাত্মা গান্ধী সকল ধর্মের রাজনীতি নাই গুলিস্তান-মিরপুরের কাপড় পাকিস্তানের বলে বিক্রি করেন তনি!

পর্ব ৩৫ :- ”যে ইতিহাসটি বলা দরকার” : এডভোকেট খোন্দকার সামসুল হক রেজা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : Monday, September 20, 2021
  • 190 Time View
এডভোকেট খোন্দকার সামসুল হক রেজাঃ
১৯৮১ সাল। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা এসেছেন বাংলাদেশে। তিনি কি ভাবে, লক্ষ লক্ষ নেতা কর্মী ভালবাসায় সিক্ত হয়ে,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হলেন, তা বিগত পর্ব গুলোতে উল্লেখ করেছি। এবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেদ্রীয় কমিটি নিয়ে আসবো। ১৯৮১ সনের বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কমিটির গঠনের ঘটনা নিয়ে আমার জানা মতে এবং বিশ্বাস মতে কথাগুলো বলার চেষ্টা করবো। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তখন ২ গ্রুপে বিভক্ত প্রায়। ১৯৮০ সনে আমি পাবিলিক এডমিনিষ্ট্রেশন এম এস এস পরীক্ষা দিয়ে, ৮১ এর জানুয়ারী মাসেই হল ছেড়ে দেই এবং কলাবাগানে আমাদের বাসায় উঠি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি সাইন্স বা কোন বিষয় অনেকের মত ভর্তি হওয়ার ইচ্ছেও আমার ছিলো না। তারপরও ছাত্রলীগ করার ইচ্ছে কিছুটা ছিল প্রবল। অনেকেই বলছিলেন, ছাত্রলীগে ভাল পদ না পেলে, পরবর্তী সময় আওয়ামী লীগে বড় নেতা হওয়া যায় না। তাই ছাত্রলীগ করার একটা প্রত্যাশা নিয়ে মাননীয় নেত্রীর সাথে দেখা করি। এবং খ ম জাহাঙ্গির ভাইকেও বিষয়টা জানাই। অতপর সেই ছাত্রলীগের ঐক্যবদ্ধ করার কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া। ১৯৮১ সন । তারিখ টা স্মরণ নেই। ঐ সময় ২ গ্রুপের ৫ জন করে ১০ জনের সমঝোতা সিটিং বসে ৩২ নং এ, বঙ্গবন্ধু ভবনে, জননেত্রী শেখ হাসিনা আপার নির্দেশে। আমরা তখন, কেউ কেউ ফজলুর রহমান রাজু ভাইর ডলফিন চেয়ারকোচ অফিসে ছিলাম। আবার কেউ কেউ কলাবাগানে জনাব, আব্দুস সামাদ আজাদ সাহেবের বাসায় অপেক্ষা করছেন এবং অন্য অনেকে মোস্তাফা মহসিন মন্টু সাহেবের বাসায় । দুই পক্ষের মাঝে চরম টেনশন চলছে, কে নতুন সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক হচ্ছেন। যেহেতু খ ম জাহাঙ্গির ভাইর সাথে আমাদের পরিবারের একটি দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক, সে হিসেবে স্বাভাবিক ভাবেই অনেকেই আমাকে খ ম জাহাঙ্গির ভাইর সমর্থক বলে ধারনা করেছেন। ওপর দিকে যারা জনাব রাজ্জাক ভাইর সমর্থক ছিলেন, তারা চাচ্ছিলেন জনাব ফজলুর রহমান সভাপতি এবং বাহ্লুল মজ্নুন চুন্নু ভাই সাধারন সম্পাদক হোক এবং তাদের সমর্থক নেতা কর্মীরা কলাবাগানে, জনাব সামাদ আজাদ সাহেবের বাসায় অবস্থান করছেন এবং ওপর গ্রুপ যারা জনাব মস্তোফা জালাল মহিউদ্দিন ভাইকে সভাপতি চাচ্ছেন এবং কাজী ইকবাল হোসেন বা সামসুল হক কে সাধারন সম্পাদক চাচ্ছেন। তাদের সমর্থক নেতা কর্মীগন জনাব মস্তোফা মহসিন মন্টু সাহেবের বাসায় অবস্থান করছিলেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আসার পর,তার সবচেয়ে ঐকান্তিক কাজ ছিল, তিনি সব সময় চেয়ছেন। দল সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকুক এবং সে করকম চিন্তা চেতনা থেকেই তিনি ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের জন্য সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকেন। এরপর দীর্ঘ আলোচনা চলতে থাকে এবং শেষে, সর্বসম্মত ভাবে, মোস্তোফা জালাল মহিউদ্দিন ভাইকে সভাপতি এবং খ ম জাহাঙ্গির হোসেন ভাই কে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করে ১০ জন ছাত্র নেতা ৩২ নং বঙ্গবন্ধুর বাড়ি থেকে বেড় হয়ে আসেন। আমি সহ কয়েকজন ৩২ নং রোডের সামনে রাজু ভাইর অফিসের কোনায় অবস্থান করছিলাম। ছাত্র লীগের ঐকমত্য কমিটি হযেছে, স্বভাবতই সকলে খুশি। এমন সময় আকবর আলি মর্জি ভাই, ঐ সময়ের ছাত্রনেতা, যিনি পরে রাজবাড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন, তিনি খ ম জাহাঙ্গীর ভাইর নাম নিয়ে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করলেন। যদিও পরে তিনি সেজন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। যাহা হোক ঐ কমিটি নিয়ে আমরা মোটামুটি বিজয় উল্লাস করলাম। এরপর মোস্তোফা জালাল মহিউদ্দিন এবং খ ম জাহাঙ্গির ভাইর কমিটির পুরাতন এলিফ্যান্টা রোড, নিউ মার্কেটের কাছে হকার্স মার্কেটের বিপরীত পাশে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অফিস উদ্বোধন হয়, সেখানেও আমার একটা ভালো ভুমিকা ছিলো । এরপর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া। জাহাঙ্গির ভাই বললেন, তোর কমিটিতে পদ নিয়ে চিম্তা করতে হবে না। তুমি ছাত্র রাজ্নীতী করবে কিনা সেটা সিদ্ধান্ত নেও। চাচার সাথে আলাপ কর। আসলে আব্বা যে রাজি হবে না, তা আমি আগেই জানতাম। তারপরও তিনি ঢাকা আসার পর তার সাথে আলাপ করলাম। এখানে একটা পিছনের কথা বলছি। আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লোক প্রশাসন বিভাগে,এম এস এস পরীক্ষার বেশ কিছুদিন পূর্বে,অনেকের মত আমারো ইচ্ছা হলো,পড়াশুনার জন্য আমেরিকা যাবো। আমার সাথের অনেকে গেছে এবং অনেকে যাওয়ার পথে। আমিও এপ্লিকেশন করলাম, আমেরিকার রুজভেল্ট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির জন্য। তখন যেকোন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলে কোন স্টুডেন্টদের ভিন্ন ভিসা লাগতো না। আমার এপ্লিকেশন করার ১০ দিনের মৈধ্যে আমার নামে ভর্তির ফরম এসে যায়। এখন ৩০ ডলার পাঠালে, তারা ভর্তি কনফারম করবে এবং আমেরিকা গিয়ে প্রতি সেমিস্টারের জন্য টিউসন ফি এবং হোস্টল ফি বাবদ ৯০ হাজার টাকার ডলার, সাথে নিয়ে যেতে হবে। আব্বা ঢাকায় আসলে, তার সাথে আলাপ করলাম। তিনি আমাকে আমেরিকা যাওয়ার চিন্তা একদম বাদ দিতে বললেন। তারপর আর আমেরিকা যাওয়া হলো না। প্রসঙ্গটা আনার কারন এখন বলছি। আব্বাকে,খ ম জাহাঙ্গির ভাইর কথা মতো বললাম, আমি জাহাঙ্গির ভাইর সাথে ছাত্রলীগ কমিটিতে থাকতে চাই। তখন তিনি বললেন, তুমি এখন ছাত্র না। তুমি ছাত্রলীগ করো কি ভাবে। তুমি, বি, সি এস পরীক্ষা দেয়ার প্রস্ততি নেও। আব্বা বলা মানে, সেই আমার ছাত্রলীগ করা শেষ। তখন ১৭০০ মার্কের বি সি এস পরীক্ষা এবং পরীক্ষার এপ্লিকেশন করলাম এবং পরীক্ষার প্রস্ততি নিতে শুরু করলাম। জাহাঙ্গির ভাইকেও বললাম বিষয় টা। তিনি বললেন,চাচা আব্দুল আজিজ খন্দকার কে আমি চিনি। তিনি ঐটাই বলবেন, আমি জানতাম। এরপর আর ছাত্রলীগ করা আমার হলো না। অথচ জালাল ভাই, জাহাঙ্গির ভাই সহ অনেক ভাইরা আমার অনেক সিনিয়র, আমার সমবয়সী হবিবুর রহমান হাবিব, শাহে আলম সহ অনেকেই ছাত্রলীগ রাজ্নীতীতে থেকে গেলেন, ১৯৯০ সনের কাছাকাছি সময় তারা ছাত্রলীগের দায়িত্তও পেয়েছিলেন । না, বি সি এস পরীক্ষায় আমি সফল হয়নি । ঐ যে আব্বা পটুয়াখালী গেলেই, ফাকে ফাকে আবার রাজ্নীতী। কৃষি ব্যাংকে চাকুরি হওয়ার পর্যায়, সাব রেজিস্ট্রার এর চাকুরির নিয়োগ পত্র আমার হাতে। সব বাতিল করলেন আব্বা। তার সরাসরি নির্দেশে ধানমন্ডি ল কলেজে ভর্তি। তারপর এলএল বি পাশ এবং ৮৭ সনে ঢাকা বারে আইনজীবী। এবার একটু অন্য রাজ্নীতী নিয়ে কথা বলবো। তখন আব্দুর রজ্জাক ভাইদের নেত্রীত্ত্বে নতুন বাকশাল শুরু হয়ে গেছে। আব্দুর রাজ্জাক ভাইদের নতুন বাকশাল গঠনের মিটিং চলছে, ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট এ। আমার কিউরিসিটি থেকেই ঐ মিটিং এর সামনে খোলা জায়গাটায় আমি গেলাম। যেয়ে দেখি, এস এম ফজলুল হক(বর্তমানে হাইকোর্টর বিজ্ঞ আইনজীবী) সহ কয়েকজন বাহিরে জটলা করছে। তখনও সভা শুরু হয়নি।ফজলু ভাই, চুন্নু ভাইরাও কাছাকাছি। আমাকে দেখেই ওরা তিপ্পুনি কাটলো। বললো রেজা দেখে যা, কতো নেতা কর্মীরা এসেছে। আমি তখন এস এম ফজলুল হক সহ সবার সামনে, জোরে জোরে ডাকদিয়ে বললাম,” বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোন বাকশাল টিকবে না। টিকতে পারে না” । একথা বলে, আমি হন হন করে বেড় হয়ে যাই। কলাবাগান চলে আসি। আমার ঐ কথা গুলো হয়তো, কেউ আব্দুর রাজ্জাক ভাইকে জানিয়েছে। তিনি আমাকে খুব পছন্দ করতেন। ৭৫ এর পর কত দিন রাজ্জাক ভাই, বেগম জোহরা তাজুদ্দিন এর বাসায় কত মিটিং করেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক থাকতে এবং তার আগেও ৭৫ এর পরে। ঐ বাকশাল সন্মেলনের কয়েকদিন পরে, সৈয়দ অহ্ম্মেদ ভাই( রাজ্জাক ভাইর কাছের মানুষ এবং যুবলীগ প্রতিষ্ঠার সময় জননেতা শেখ মনি ভাইর সাথে ছিলেন এবং আমাকে অনেক আগে থেকেই জানতেন) হটাৎ একদিন কলাবাগানে এসে, আমাকে তার ঝিকাতলার বাসায় নিয়ে গেলেন। তারপর তিনি আমাকে বললেন, তুমি বাকশাল মিটিং এ যেয়ে কোন খারাপ কথা বলেছো কিনা। রাজ্জাক ভাই তাকে বলেছেন। তিনি আরো বললেন রাজ্জাক ভাই, তোমাকে খুব পছন্দ করেন। তিনি চাচ্ছেন, তুমি বাকশাল করো এবং একটা ভালো দায়ীত্ত্বে তোমাকে দিতে চান । আমি তাকে সরাসরি বললাম, ভাই তাকে সন্মান রেখেই বলছি, আমি বাকশাল করবো না। আপনি রাজ্জাক ভাইকে বিষয়টা সন্মানের সাথে জানাবেন । এর কিছু দিন পরেই আমি কলাবাগনের ডা: আব্দুল মালেক ভাইর সাথে বঙ্গবন্ধু পরিষদে যোগ দেই। এবং পটুয়াখালী জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারন সম্পাদক হই । আর বাংলাদেশ কৃষক লীগে ১৯৯২ সন থেকে। এছাড়া বর্তমান বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহবায়ক কমিটি হওয়ার আগ পর্যন্ত, সাহারা আপা ও আব্দুল্লহ আবু ভাইর নেত্রীত্তে গঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম থেকে সদস্য ছিলাম।(ক্রমশঃ) খোন্দকার শামসুল হক রেজা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ কৃষক লীগ। ২২ জুন ‘২০২০
শেয়ার করুন
More News Of This Category

Dairy and pen distribution

ডিজাইনঃ নাগরিক আইটি ডটকম
themesba-lates1749691102