June 14, 2024, 10:44 pm
শিরোনামঃ
পবিত্র ঈদ-উল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মোঃ ইব্রাহিম খান তুষার অনেক বড় বড় জায়গা থেকে তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতে তদবির করা হচ্ছে: এমপি আনারের মেয়ে সাইদুল করিম মিন্টুর মোবাইলে মেসেজ ‘আনার শেষ, মনোনয়ন কনফার্ম’! লোহার খাঁচার ভেতরে থাকাটা অপমানজনক, হয়রানি করা হচ্ছে: ড. ইউনূস রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে রুশ সেনাবাহিনীতে নিযুক্ত ২ ভারতীয় নিহত ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেনঃ এনাম-ই-খোদা জুলু ১১ জুন শুধু জননেত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস নয়, গণতন্ত্রেরও মুক্তি দিবস : সাজেদুল ইসলাম নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মনির মিয়াকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সাইদুল ইসলাম বাদল বিরল আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব আশেকে রসূল ‘আল্লামা শায়খ মানযূর আহমাদ (রাঃ)- প্রফেসর ডা. মুহাম্মাদ আমীরুল ইসলাম আল আহমাদী উয়েসী (পি.এইচ. ডি) ‘পুলিশ সদস্য কেন আরেক পুলিশ সদস্যকে গুলি করেছে জানতে তদন্ত হচ্ছে’

পর্ব ১৯ :- “যে ইতিহাসটি বলা দরকার”: এডভোকেট খোন্দকার সামসুল হক রেজা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : Thursday, August 26, 2021
  • 305 Time View
এডভোকেট খোন্দকার সামসুল হক রেজা
সামরিক স্বৈরাচার জিয়াউর রহমান, তার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার লক্ষ্যে,বহু সংখ্যক পাতানো সামরিক ক্যুর মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর অনেক অফিসারদের হত্যা করেছে। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে ঘোষনা দিয়েছিল, ” আই উইল মেক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট, ফর দি পলিটিসিয়ান্স ” । এরপর সেই জিয়াউর রহমানই, রাজনীতির নামে এক বিকৃতি রাজ্নীতী শুরু করে। একদিকে “হা না ” ভোট দিয়ে এবং পরে স্বঘোষিত প্রেসিডেনট হয়ে এবং পরে প্রেসিডেনট নির্বাচন দিয়ে,একটি ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধমে, বাংলাদেশে এক নতুন ধারার “অশুভ” রাজ্নীতী শুরু করে। বিভিন্ন দল থেকে নেতা কেনাকাটা করে, ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে, ভয় ভীতি দেখিয়ে লোক ভাগিয়ে, অন্য দল ভেঙে নিজের দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে। নিজে প্রেসিডেনট থাকলেও ভাইস প্রেসিডেনট, বিচারপতি আব্দুস সাত্তার মাধ্যমে প্রথমে জাগদল এবং পরে বি এন পি নামক দল গঠন করে। জিয়াউর রহমান ঐ সময় ঘরোয়া রাজনীতির নামে নতুন এক আজ্গবি প্রক্রিয়া শুরু করে। তার বিভিন্ন উপদেষ্টা ও বিভিন্ম এজেন্ট, সামরিক বাহিনীর অফিসার মাধ্যমে, সমগ্র বাংলাদেশর বিভিন্ন অরাজনৈতিক ব্যাক্তিদের , আমলা, সামরিক বাহিনীর সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে, সাবেক এম পি দের থেকে, এনে জাগদল গঠনের উদ্যোগ নেয়। ১৯৭৭ সনের দিকে সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে, পটুয়াখালী জেলার কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্য, আমার পিতা আব্দুল আজিজ খন্দকার, আবুল কাশেম, আব্দুল বারেক মিয়া, নিজামউদ্দীন তালুকদার সহ কয়েক জন সাবেক সাংসদদের ঢাকায়, প্রেসিডেনট ভবনে চায়ের দাওয়াত দেয়। যে প্রক্রিয়াটা শুরু করে ঐ সময়ের প্রেসিডেনট জিয়াউর রহমান সরকারের একজন উপদেষ্টা ( পাকিস্তানের সাবেক স্পিকার জব্বার খান সাহেবের পুত্র)। এছাড়াও মেজর জেনারেল নুরুল ইসলাম শিশুও ঐ প্রক্রিয়ায় কাজ করেন। ইতিমৈধ্যে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের তত্কালীন সাধারণ সম্পাদক, আশরাফ আলি খান, আওয়ামী লিগ নেতা আব্দুর রব মিয়া ( গলাচিপা), পটুয়াখালী লতিফ হাই স্কুলের হেড মাস্টার সুলতান আহমেদ সহ কতক নেতা কর্মী জাগদলে যোগ দিয়েছেন । যদিও ঐ প্রক্রিয়াটা আগে থেকেই আব্বা টের পান। তাই ঐ সময় আব্বা প্রায়ই পটুয়াখালীর বাহিরে থাকতেন বা ঢাকায় থাকতেন । একদিন আব্বা বাউফলে মিটিং করছেন। হটাৎ টি এন ও অফিস থেকে পুলিশ মাধ্যমে খবর আসে, ” পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আব্বাকে, আগামি আগামীকালকের মইধ্যে ঢাকায় যেতে বলেছে। প্রেসিডেনট জিয়াউর রহমান, প্রেসিডেনট ভবনে তাকে চায়ের দাওয়াত দিয়েছেন । অন্যান্য সাবেক এম পি আবুল কাশেম সাহেব,হবিবুর রহমান মিয়া, আব্দুল বারেক মিয়া ও নিজামউদ্দিন তালুকদার কেও চায়ের দাওয়াত দিয়েছেন এবং তারা ইতিমৈধ্যে তারা ঢাকা চলে গেছেন। আব্বা প্রথম থেকেই এধরনের একটা প্রোগ্রাম এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এভাবে জোর পূর্বক চায়ের দাওয়াত ! ইচ্ছায় না গেলে জোর পূর্বক নিয়ে যাবে, বিষয়টা এমন ছিল। এ ব্যাপারে তখন বাহিরে কথা এসেছে, আব্বা মন্ত্রী হয়ে যাচ্ছেন । যদিও এব্যাপারে জিয়ার ঐ উপদেষ্টা সাহেব, আব্বাকে আগেই প্রচ্ছন্য ইংগীত দিয়েছিলেন। এছাড়া আমাদের আত্তীয়, রুহুল আমিন হাওলাদার ( তার বড় চাচা, অব্বার বড় ভগ্নিপতি ছিলেন, যিনি আমদের গ্রামের বাড়ি বৌলতোলীতে থাকতেন) তখন জিয়ার কাছের মানুষ ছিলেন। যিনি ৭৯ সনে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বি এন পির এম পিও হয়েছিলেন ( রুহুল অমীন হাওলাদার সাহেব পরবর্তিকালে হোসেন মোহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং এরশাদ সরকারের হুইপ ও পরে যুব প্রতিমন্ত্রীও হযেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ২০০৮ এ আওয়ামী লিগ জোটের সাথে জাতীয় পার্টি থেকে এম পি ও মন্ত্রীও হয়েছেন, তার স্ত্রীও এম পি হযেছেন, যথাক্রমে পটুয়াখালী সদর ও বাখেরগঞ্জ আসন থেকে সরাসরি আসনে। তার স্ত্রী এখনো বাখেরগঞ্জের আসনের বর্তমান আওয়ামী লিগ জোটে, জাতীয় পার্টির কোটায় সরাসরি এম পি।) ঐ সময় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতা ছিলো , চট্টগ্রামের মাফুজুর রহমান। ঐ মাফুজুর রহমানই, চট্টগ্রামে একটি সভায় , প্রথম, জিয়াউর রহমান কে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের তথাকথিত ” মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক ” হিসাবে ঘোষনা করে ! । যদিও তখন পর্যন্ত জিয়াউর রহমান না তার দল বা অন্য কেউ এধরণের দাবী কোথায়ও করেনি। রুহুল আমিন হাওলাদার ভাইও চাচ্ছিলেন, আব্বা বি এন পি তে আসুক এবং মন্ত্রীত্তের মত একটা ভালো পদ পাক। কিন্তু রুহুল ভাইও জানতেন, আব্বা কখনো ওকাজটি করবেন না। তাই আব্বাকে সরাসরি কখনো তিনি ওকথা বলতে সাহস পাননি। অন্য আত্তীয় স্বজনের মাধ্যমে বলার চেষ্টা করেছেন। তাছাড়া , রুহুল ভাই আব্বাকে সব সময় খুবই সন্ম্মান করতেন।
অতপর পটুয়াখালীর ডি সি সাহেবের কথামতো, আব্বা ঐ দিনই লঞ্চে ঢাকায় চলে আসেন। যদিও ঐ সময় বাহিরে একটা কথা ছিলো যে,ঐ সাবেক এম পি সাহেবদের মৈধ্যে একজন ঐসকল প্রোগ্রামের আয়োজনে ছিল, ইতিমৈধ্যে অন্য সাবেক এম পি সাহেবরা ঢাকায় পৌছে গেছেন। পরদিন আব্বা ঢাকা পৌছেন। ঢাকায় সকলের সাথে যোগযোগ হয়। যেহেতু আব্বা সব সময় মুখের উপর কথা বলতে পারদর্শী ছিলেন এবং কথা বলতে কখনও হেজিটেট করতেন না । আইনজীবী হিসাবেও তিনি সবসময় সরাসরি যুক্তি দিয়ে কথা বলতেন। এখানে একটা বিষয় উল্লেখ করা দরকার , আমার পিতা যখন আইনজীবী ছিলেন বা পরে যখন এম পি হযেছেন, তিনি কখনো কোন ডি সি সাহেব বা সচিব কে সার ডাকতেন না । তিনি ডি সি সাহেব, এস পি সাহেব বা সচিব সাহেব সম্বোধন করে কথা বলতেন। সে জন্য প্রেসিডেনট ভবনে জিয়াউর রহমান এর সাথে কথা বলার দাইত্তো আব্বাকেই দেয়া হয় । নির্দিশ্ট সময় সকালে বঙ্গভবনে গেলন আব্বা সহ সাবেক এম পি গন। বঙ্গভবনে গেটে আগেই পাশ দেয়া ছিল। যথারীতি তারা ভিতরে গেলেন ।একটি ভালো কক্ষে তাদের বসতে দেয়া হল। প্রেসিডেনট জিয়া নিদ্দিষ্ট সময় তাদের কাছে আসলেন। জিয়া খুব ব্যাস্ততার ভাব দেখালেন । তার ধারণা ছিল সব ঠিকঠাক আছে । তাই তিনি সৌজন্য আলাপ করেই, বললেন আসল কথায় আসাযাক। তারপর তিনি এভাবে কথা বলা শুরু করলেন। বললেন, ” আপনারা সকলে সাবেক এম পি । দেশ ও জাতির মহান ব্যাক্তি। দেশের জন্য আপনারা অনেক কিছু করেছেন। ভবিষ্যতেও অবদান রাখবেন । আমি দেশকে “নতুন বাংলাদেশ “করতে চাই। আপনারা আমার সাথে থাকলে আপনাদের নিয়েই নতুন বাংলাদেশ করতে চাই । তাই আপনারা আমার সাথে আসেন “। তখন আব্বা মুখ খোলেন। তিনি বললেন এভাবে, ” You are the President and we are the subjects, we are always with you ” । তখন জিয়াউর রহমান বললেন, ” না না আমার দলে আসেন “। তখনই আব্বা বললেন, “আপনার কোন দল তো আমরা জানিনা “। তখন জিয়া বললেন, ” আমার দল কোনটা আপনারা তা জানেন না “। আব্বা তখন বললেন,”কাগজ পত্রে তো কোথায়ও দেখিনা”।(ঐ সময় প্রেসিডেনট জিয়া ” জাগদল ” গঠন করলেও, তিনি দলের সভাপতি ছিলেন না। সভাপতি ছিলেন, ভাইস প্রেসিডেনট বিচারপতি আব্দুস সাত্তার সাহেব )। তখন জিয়াউর রহমান বুঝতে পারেন, আব্বা কি বলতে চান ! এরপর জিয়াউর রহমান কোন কথা না বাড়িয়ে, তারাতারি চা খায়িয়ে তাদের বিদায় দিলেন এবং বললেন, খুবশিগ্র তিনি পটুয়াখালী যাবেন, তখন তাদের খবর দেবেন এবং পটুয়াখালীতে কথা বলবেন। যদিও এর অল্প কিছু দিন পরেই জিয়া পটুয়াখালী যায় , কিন্তু কোন সাবেক এম পি দের আর খবর দেননি। এভাবেই সামনে মন্ত্রীত্তের হাতছানি, অন্য দিকে নির্যাতন আর জেলের ভয়, আব্বা সহ কোন সাবেক এম পি দের কে পটুয়াখালীতে জিয়া তার দলে নিতে পারেনি। ২৫ মে’ ২০২০
শেয়ার করুন
More News Of This Category

Dairy and pen distribution

ডিজাইনঃ নাগরিক আইটি ডটকম
themesba-lates1749691102