এডভোকেট খোন্দকার সামসুল হক রেজাঃ হটাৎ চলে গেলো , আমাদের সকলকে ছেড়ে। আমার ৮ বছরের ছোট ভাই,খন্দকার সামসুল ইসলাম বাবুল। পটুয়াখালী আসলে, ওর বাসায়ই থাকতাম। কিন্তু বিগত ২০২৩ সনের জুলাই মাসের পর, ২য় তলায় ছোট ভাই,সেলিমের বাসায় থাকি। আজ ২১ মে, বাউফল উপজেলা পরিষদ ইলেকশন উপলক্ষে আসা। সেলিম কয়েকদিন পূর্বে আমেরিকা বেড়াতে গেছে। তাই ওর বাসায় রাতে থাকার কথা থাকলেও, বাসায় মেহমান থাকায় ৩য় তলায় থাকতে হয়। সাথে আরো ২ জন সহ বাবুলের বাসায়ই ছিলো। রাতে যে কতবার যে বাবুলকে মনে পড়েছে, তা বলতে পারব না। হা বাবুলের কথা বলছিলাম। ও পটুয়াখালীতে ছাত্রলীগ, পটুয়াখালী জেলা কৃষক লীগের সাধারন সম্পাদক এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ছিল।এক সময় বাবুলের সদর রোডের খন্দকার এন্টারপ্রাইজ দোকানে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাদের সাথে দেখা হতো।সেই বাবুল এখন নেই,নেতাদের সাথেও এখন খুব একট দেখা হয়না। আমি যখন একটি সংগঠনের দায়িত্বপুর্ণ পদে ছিলাম, তখন পটুয়াখালীর একজন নেতা, যার সব সময় আমাদের বাসায় যাতায়েত ছিলো। আমার আব্বার আমল থেকে বাবুলের আমল পর্যন্ত। তিনি ঢাকা গেলে আমার হাইকোর্ট চেম্বারে বা কলাবাগান চেম্বারে সবসময় যেতেন। আমি পটুয়াখালী আসলে তাকে ফোন না করলে, আমাকে রাগ করতেন, যিনি পটুয়াখালীতে সবসময় বাবুলের দোকানে বসতো, সে ভাইটির সাথে এখন আর দেখা হয়না বা মোবাইলেও কথা হয়না। সে ছাড়াও পটুয়াখালীর অনেকের সাথে দেখা হয়না। আসলে এখন সময়টা যেন কেমন হয়ে যাচ্ছে !।১৯৯৬ সনের নির্বাচনে ঢাকার কলাবাগানে, তত্কালীন বৃহত্তর ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব ফজ্লুর রহমান রাজু ভাইয়ের অফিসে বসে, পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী, মরহুম এডভোকেট শাহজাহান মিয়া এর সভাপতিত্তে করা সমঝোতা সভায়, আমাদের বর্তমান এম পি মহোদয় ৯৬ এর নির্বাচনে আমার পক্ষে সমর্থন দেয়ার পরও, মাননীয় জননেত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে উক্ত রেজুলেশন কপি (উক্ত রেজুলেশন এর ফটোকপি আমার নিকট এখও সংরক্ষিত আছে) ঐ সভার সভাপতি এবং আমাদের এম পি মহোদয় দাখিল না করার কারনে, আমার এম পি মনোনয়ন হলো না। তারপরও ৯৬ এর নির্বাচনে মাঠে নামতে, আমার একদিনও দেরী হয়নি। পুরো নির্বাচনে এম পি সহেবের সাথে কাজ করেছি। প্রতিটি নির্বাচনে বাউফলে, এম পি , উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সব সময় কাজ করেছি নৌকা মার্কার জন্য, অথচ এবার সেই উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের উপজিলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান বা মহিলা ভাইস প্রার্থী কারো সাথে দেখাও হয়নি বা ঢাকা থেকে বাউফলে আজকে ভোট দিতে এসে, দলীয় নেতাকর্মী বা কারো সাথে ফোনেও যোগাযোগ করতে পারিনি বা করিনি। কনকদিয়া ইউনিয়নে, আমার বাড়ী বৌলতলীর সাথে, আয়লা স্কুল সেন্টারে ভোট দিয়ে, বাড়ীতে ঢুকে, সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট থেকে, বাউফল ছেড়ে পটুয়াখালী চলে আসি। এধরনের ঘটনা আমার আর কখনও হয়নি। ১৯৯৬ সনে ঝালকাঠিতে আমার প্রিয়নেতা, আমির হোসেন আমু ভাইর উপনির্বাচনে বা পরবর্ত্তীকালে, টাঙ্গাইল এর বাসাইল সখিপুরে জনাব আব্দুল কাদের সিদ্দিকী এবং শওকত মোমেন শাহজাহান ভাইয়ের উপনির্বচনে, অনেক সভা সমাবেশ করেছি অথচ এবার বাউফলে শুধূ ভোট দিয়েই চলে আসলাম,বলতে গেলে গোপনের মত। পটুয়াখালী উপজেলা নির্বাচনও ২৯ তারিখ। অথচ পটুয়াখালী বা বাউফলে কোন নেতৃবৃন্দের সাথে দেখা হলো না, দেখা হলো না সেই বড়ভাইর সাথে,যিনি বলতে গেলে, আমাদের পরিবারের সদস্য এবং যিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের একটি দায়িত্বপুর্ণ পদে আছেন এবং আরেকজন দায়িত্বপূর্ণ ব্যক্তি, যার চাচা একজন বিখ্যাত ব্যক্তি ছিলেন। আমার আব্বার সাথে যার দীর্ঘ রাজনৈতিক এবং পারিবারিক সম্পর্ক ছিলো, যার আপনভাই এবং ঐ স্বনামধন্য ব্যক্তির মেয়েজামাই, আমার সাথে ১৯৮৯-৯২ পর্যন্ত পটুয়াখালীতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ করেছেন, তার সাথেও দেখা হয়না অনেকদিন। তিনিও খোজ নেন না,আমিও ফোন দেইনা। বর্তমান সময়টা এমনিই চলছে !!!। ক্রমশঃ এডভোকেট খোন্দকার শামসুল হক রেজা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ কৃষক লীগ। ২১মে’২০২৪