কোন দলের নাম উল্লেখ করে লিখব আমার ঘাড়ে ক’টা মাথা। যে কোন দল বা বড় নেতাদের সব সময়েই লক্ষ থাকে দেশ ও জনতার কল্যাণে কাজ করা। সেইসাথে আর্দশবান ত্যাগী নিবেদিত প্রাণ নেতা-কর্মী তৈরী করা। যারা দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করবেন। এসময়ে তা আর হচ্ছে কই। নেতার নেতৃত্ব মানছে কে? যেন যে যার মত চলছে। অনেকে উড়ে এসে জুড়ে বসে নেতা সাজছে। দলের হাই কমান্ডের কথা কি শুনছে সবাই? তবে একথা যে সব নেতা-কর্মী বা সমর্থকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তা বলা যাবেনা। কতিপয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকের জন্যই দলকে একদিন বড় মাশুল গুণতে বা দিতে হয়। তা’নাহলে জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন, সিটি কর্পোরেশন, ওর্য়াড, গ্রাম এমনকি পাড়া মহল্লায় নিজ নিজ দলগুলোর এত গ্রুপিং কেন? নেতার অভাব নাই। যেন ভাল নেতার অভাব। ভাল নেতৃত্বের অভাব। কে বলল নেই সেই নেতা? নাকি নেই সেই নেতৃত্ব? সবই আছে? কিন্তু কেন জানি কেউ, কারো কথা শুনছেনা বা মানছেনা। তাইতো সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা পড়ছে বিপাকে। আর সুযোগ সন্ধানীরা সেই সুযোগের পুরোটাই লুফে নিচ্ছে। অথচ দলের ত্যাগী কর্মী-সমর্থকরা নেতাদের গ্রুপিং -এ পড়ে কে কার কর্মী বা সমর্থক হবে এই সিদ্ধান্তে তারা পড়ে যায় গ্যাঁড়াকলে। অবশেষে কর্মী বা সমর্থকরা একরকম বাধ্য হয়েই একজনের পক্ষ নেন। কিন্তু তাতেই কি সব শেষ হয়ে যায়। না তা হয়নি। যেন একজনের কাছে গেলে, অন্যজন রুষ্ট, কাকে করি সন্তোষ্ট। আর তাতে করে দলের প্রতি অনেকের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। কারণ দল করেও যদি কোন নেতার রোষানলে পড়তে হয়। তার চেয়ে দল না করাই ভাল। এতে করে ক্ষতি হচ্ছে কার? কেউ একবার ভেবে দেখছেন কি? এই দলীয় গ্রুপিং আপনার/ আপনাদের দলের বৃহৎ ক্ষতি সাধন হচ্ছে তা ভাববার সময় এখনি। একই দলের কর্মী বা সমর্থক হয়েও যেখানে নেতাদের গ্রুপিং -এ পড়ে নিজ দলীয় নেতার রোষানলের স্বীকার হন দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। সেখানে সাধারণের অবস্থা কি তা সহজেই অনুমেয়। বড় নেতারা একসাথে খানা-দানা এবং চলাফেরা করলেও, কর্মীরা হয়ে পড়েন বিভাজন। আমি অমুখ নেতার, সে তমুক নেতার কর্মী। ভাবখানা এমন, যেন দেখাতে হবে কার নেতার কত ক্ষমতা। এনিয়ে তাদের মাঝে চলে কত কথার চালাচালি, লেগে যায় মারামরি,শুরু হয় হানাহানি। চলে সদা হিংসা-বিদ্বেষ, নিন্দা ও প্রতিহিংসার ছড়াছড়ি। অথচ তারা একই দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থক। এঅবস্থায় স্থানীয় নির্বাচন এলে আমাদের মত সাধারণ মানুষেরা তো পড়েন আরো মহাবিপাকে। কাকে সমর্থন করে কার মন রক্ষা করব। কে কোন নেতার প্রার্থী, কাকে সমর্থন দিয়ে আবার কার রোষানলে পরব। তাইতো জনতা প্রাণ খোলে কথা বলবে সে সুযোগ আর কোথায়? তবে সুবিধাবাদী কিছু কর্মী বা সমর্থককে দেখা যায়, জোয়ার যেদিকে যায়, তারাও সেদিকে যায়। এরা যে কারো নয়, সেকথা কে বুঝাবে নেতাদের। বরং এই সুবিধাবাদীরা রং লাগাতে নেতাদের আশে-পাশে সবসময় ঘুরঘুর করে। কর্মী বা সমর্থকরা কে কোন নেতার কাছে এল-গেল, কোন কর্মী বা সমর্থক কোন নেতার সাথে উঠাবসা করল সেসব বলে কয়ে এরা নেতার কান ভারী করে এবং নেতার মন গলাতে সদাব্যস্ত থাকে। যেন নেতা শুধু এদের একার। অথচ কর্মী-সমর্থকরা সবাই একই দলের অনুসারী। সুবিধা বাদিরা নেতার কান ভারী করে বরং তাকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দিয়ে তার নাম বেঁচে নিজের প্রভাব জনসাধারণে খাটায় বা দেখায়। এরা মূলত নেতাকে কর্মী শূণ্য বানানোর পায়তারা চালায়। সেই সুযোগে নেতার কাছ থেকে এরা হালুয়া রুটি আর স্বার্থ সিদ্ধি হাসিলের সুবিধা ভাগায়। অতএব এদের মত কর্মী ও সমর্থকদের কাছ থেকে নেতাদের হতে হবে আরো সর্তক। তা’না হলে দিনকে দিন নেতার জন সমর্থন কমতে থাকবে একথা বলাই যায়। তাইতো এখনোই সময়,দলের ভিত্তি মজবুত করার এবং দলকে ভালবেসে দলের কথা, নেতার কথা মেনে চলার। নেতা যার যার কিন্তু দল নেতা-কর্মী-সমর্থক সবার। লেখকঃ শিক্ষক ও কলামিস্ট, মোঃ রিদওয়ান আবিদ চৌধুরী জয়।