April 18, 2024, 11:54 am
শিরোনামঃ
শুধু প্রশাসন দিয়ে মাদক ও কিশোর গাং প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে ? গুচ্ছভুক্ত ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা ভন্ড কবিরাজ বলেন তিনমাথা,জ্বীন দিয়ে ও গোখরা সাপের কামড় দিয়ে শেষ করে দিব জানা গেল কোরবানি ঈদের সম্ভাব্য তারিখ বাংলা ও বাঙ্গালীর নববর্ষঃ আঃ রহমান শাহ ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন কৃষক লীগ নেতা মোঃ হালিম খান পদ্মা সেতুতে একদিনে সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড জাহাজেই ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করলেন জিম্মি নাবিকরা পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছে আলহাজ্ব লায়ন মোঃ দেলোয়ার হোসেন

ধর্ম অবমাননা করা কাম্য নয়ঃ মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : Friday, July 14, 2023
  • 75 Time View

মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহীঃ পাহাড় পর্বত নদী সাগর ও গাছ পালা দিয়ে সাজানো এই সুন্দর পৃথিবীতে প্রায় ৭০০ কোটি মানুষের বসাবস। এর প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষই কোনো না কোনো ধর্মের অনুসারী। অর্থাৎ খুব কম মানুষই ধর্মে অবিশ্বাসী। তবে এক ধর্মের অনুসারী ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ভিন্ন ধর্মবলম্বীকে কিংবা এক ধর্মের অনুসারী ভিন্ন ধর্মের অনুসারীকে কটাক্ষ্য করবে, ছোট করবে বা অবমাননা করবে তা কোনোভাবে কাম্য নয়। আল্লাহ বলেন: এরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের ইবাদত পূজা অর্চনা করে তোমরা তাদেরকে গালাগালি করনা, তাহলে তারা অজ্ঞতা বশত বৈরীভাবে আল্লাহকেই গালাগালি দিতে শুরু করবে। আমিতো এ রূপেই প্রতিটি জনগোষ্ঠির জন্য তাদের আমলকে চাকচিক্যময় করে দিয়েছি। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে তাদের রবের কাছে ফিরে যেতে হবে, তখন তারা কি কি কাজ করেছিল তা তিনি তাদেরকে জানিয়ে দিবেন। (সূরা আল আনআম, আয়াত: ১০৮) এই আয়াতের ব্যাখা হলো, অন্য কোন ধর্মকে গালি দেওয়া যাবে না, এবং কোন দেব দেবতাকে গালি দেওয়া যাবে না। অন্যের ধর্মের লোকেরা আমাদের আল্লাহকে যেন গালি না দেয় এমন করা যাবে না। যার যার ধর্ম পালন করবে। ইসলাম হল শান্তির ধর্ম, অন্যের ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা নিষেধ করা হয়েছে। এটাই ইসলাম ধর্মের সৌন্দয্য। এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর থেকে মুসলমানেরা অন্য কোন ধর্মে কে আঘাত করে না এবং সম্মান দেখায়। কিন্তু বিভিন্ন সময় দেখা যায় অন্য ধর্মের লোকেরা আমাদের ধর্মকে অবমাননা করে এবং আমাদের মাথার তাজ সুলতানে মদীনা হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে অপমান করে। আমাদের আল কুরআনকে তারা আঘাত করে।

সম্প্রতি সময়ে সুইডেনে মুসলিমদের পবিত্র কিতাব ও পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ট গ্রন্থ আল কুরআনকে পোড়ানে হয়েছে। গত ২৮ শে জনু স্টকহোম শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদের বাইরে পবিত্র আল কুরআনের একটি কপিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এক ব্যক্তি। তার নাম সালওয়ান মোমিকা সে সুইডেনে বসবাসরত। তুরষ্ক, ইরাক, ইরান, মিশর, সৌদি আরব, ইয়েমেন, জর্ডান মরক্কো ও বাংলাদেশ সহ বেশ কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এবং বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।আল্লাহর কিতাব আল কুরআনকে পোড়ানোর ঘটনা সারা বিশ্বের মুসলমানদের কলিজার মধ্যে আঘাত লেগেছে, কারণ আল কুরআন আমাদের জিবনবিধান আমাদের ভালবাসা আমাদের ঈমান। যুগে যুগে কাফের মুশরিকরা আল কুরআনকে মাইনাস করতে চেয়েছিল কিন্তু তারা পারে নাই, তারা নিজেরা মাইনাস হয়ে গেছে। আল কুরআন হচ্ছে আলো, নূর, পৃথিবীর কোন শক্তি এই আল্লাহর আলো কে নিভিয়ে দিতে পারবে না। মহা গ্রন্থ আল কুরআনে এসেছে, তারা আল্লাহর নূর ফুৎকারে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তার নূর পূর্ণরূপে উদ্ভাসিত করবেন, যদিও কাফিরেরা তা অপছন্দ করে। (সূরা আস সাফ, আয়াত: ০৮) তারা দুনিয়া থেকে হিদায়াত ও সত্য দীনকে মুছে ফেলতে চায়। কিন্তু এটাই সম্ভব না। এটাই হল আল্লাহর আলো, আল্লাহর আলো সবসময় জ্বলবে, আল্লাহর আলোকে আল্লাহ হেফাজত করবে। লাখো লাখো শক্তি ও কোন ষড়যন্ত্রকারী এই আল্লাহর কুরআনকে নিভিয়ে দিতে পারবে না।

আল্লাহর রাসূল (সা.) এর অবমাননাকারীরা আখিরাতে অনন্তকাল জাহান্নামে থাকবে।

আকায়ে নামদার, তাজেদার মদীনা, হুজুরে আকরাম, রাহমাতাল্লিন আলামিন, আল্লাহর বন্ধু হযরত মুহাম্মদ (সা.) । তার শান মান আল্লাহর কাছে অনেক মহান, তার অসিলায় আল্লাহ তায়ালা আসমান যমিন চন্দ সূর্য্য পাহাড় পর্বত গাছ পালা সহ সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বলেন, এবং আমি তোমার খ্যাতিকে উচ্চ মর্যদা দান করেছি। (সূরা আল ইনশিরাহ, আয়াত: ৪) এই পৃথিবীতে যখন অশান্তির যুগ ছিল, যখন বর্বরতার যুগ ছিল, অন্ধকারের যুগ ছিল, যে যুগে কন্যা শিশুদের কে হত্যা করা হতো এবং কোন নারীর মর্যদা ছিলনা। সেই যুগে আমাদের প্রিয় নবী (সা.) শান্তির বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করেন। তার আগমনের কারণে কারণে সারা পৃথিবী আলোকিত হয়ে যায় এবং বনের পশু পাখি গাছ পালা সবাই খুশি হয়ে যায়। তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং সর্বশেষ নবী। তিনি আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলাম কায়েম করেন এবং আল্লাহর বাণী সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দেন। আল্লাহর প্রিয় নবী (সা.) কে যারা অবমাননা করেছেন তারা ধ্বংস হয়ে গেছেন, আবু জেহেল, আস ইবনে ওয়ায়েল ও আস ইবনে মগীরা সহ অসংখ্য কাফের ধ্বংস হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে শুনা যায় বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ধর্মের লোকেরা প্রিয় নবীজীকে অবমাননা করেন। এবং মুসলিমরা প্রতিবাদ করে থাকেন। আল্লাহ বলেন: যারা আল্লাহ ও রাসূলকে পাড়া দেয় আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত করেন এবং তিনি তাদের জন্য রেখেছেন লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। (সূরা আল আহযাব, আয়াত: ৫৭) অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন: তারা কি জানেনা যে, আল্লাহ ও তার রাসূলের যারা বিরুদ্ধাচরণ করে, এমন লোকের ভাগ্যে রয়েছে জাহান্নামের আগুন? তারা তাতে অনন্তকাল থাকবে, এটা হচ্ছে চরম লাঞ্ছনা। (সূরা আত তাওবাহ, আয়াত: ৬৩)

ধর্মীয় অবমাননা বাংলাদেশী আইন।

বাংলাদেশ দণ্ডবিধিৃ আইনের ২৯৫ক ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে বাংলাদেশের যে কোনো নাগরিকের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অসদুদ্দেশ্যে লিখিত বা মৌখিক বক্তব্য দ্বারা কিংবা দৃশ্যমান অঙ্গভঙ্গি দ্বারা সংশ্লিষ্ট ধর্মটিকে বা কারো ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবমাননা করে বা অবমাননার চেষ্টা করে, সে ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তিকে দুই বছর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড কিংবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।

লেখক: আলেম, গবেষক।

শেয়ার করুন
More News Of This Category

Dairy and pen distribution

ডিজাইনঃ নাগরিক আইটি ডটকম
themesba-lates1749691102