June 15, 2024, 11:42 am
শিরোনামঃ
পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মোঃ জাফর ইকবাল (বাবুল) পবিত্র ঈদ-উল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মোঃ সাইফ ইসলাম শুভ পবিত্র ঈদ-উল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মোঃ ইব্রাহিম খান তুষার অনেক বড় বড় জায়গা থেকে তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতে তদবির করা হচ্ছে: এমপি আনারের মেয়ে সাইদুল করিম মিন্টুর মোবাইলে মেসেজ ‘আনার শেষ, মনোনয়ন কনফার্ম’! লোহার খাঁচার ভেতরে থাকাটা অপমানজনক, হয়রানি করা হচ্ছে: ড. ইউনূস রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে রুশ সেনাবাহিনীতে নিযুক্ত ২ ভারতীয় নিহত ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেনঃ এনাম-ই-খোদা জুলু ১১ জুন শুধু জননেত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস নয়, গণতন্ত্রেরও মুক্তি দিবস : সাজেদুল ইসলাম নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মনির মিয়াকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সাইদুল ইসলাম বাদল

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে “মুসপ” এর আয়োজনে আলোচনা সভা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : Sunday, August 22, 2021
  • 282 Time View

মোঃ ইব্রাহিম হোসেনঃ স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী ও ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সব শহীদদের রূহের মাগফেরাত কামনায় ২২ আগস্ট ২০২১ রোজ রবিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ (মুসপ) এর আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ (মুসপ) এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা বেগম মাজেদা শওকত আলীর সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হাসান-উজ-জামানের সঞ্চলনায় অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক নেতা ফরিদা ইয়াসমিন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান জনাব অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক, গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ, মোবারক হোসেন সেলিম, ইউনুস মিয়া, মোতাহার হোসেন মোল্লা, অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, ডাঃ খালেদ শওকত আলী, সাংগঠনিক সচিব মাহামুদুর রহমান খোকন, সমবায় সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ এর ভাগনা, রাজধানী মোহাম্মদপুর থানার ৩১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বিশিষ্ট সমাজ সেবক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ তালুকদার, ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আমজাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রজত সুর রাজু, ৭১ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ড. জেবুন নাহার, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আরিফ যোবায়ের প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা, ১৫ আগস্টের সকল শহিদ, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহিদ এবং মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং সম্ভ্রমহারা দু’লাখ মা-বোন স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দেশের স্বাধীনতা বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ঘাতকচক্রের হাতে ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ হন। একই সাথে শহীদ হন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশুপুত্র শেখ রাসেলসহ আরো অনেকে। এ নৃশংস হত্যাকা-পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ‘৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ‘৫৮ এর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ‘৬৬ এর ৬-দফা, ‘৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ‘৭০ এর নির্বাচনসহ বাঙালির মুক্তি ও অধিকার আদায়ে পরিচালিত প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধু। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি অর্জন করে বহু কাঙ্খিত স্বাধীনতা। ১৫ আগস্ট ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করলেও তাঁর স্বপ্ন ও আর্দশের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। তাঁরই কন্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষক-রত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বির্নিমাণে নিরসলভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জাতির পিতা হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবো- এই হোক আমাদের শোক দিবসের অঙ্গীকার। জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যবৃন্দসহ সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং মহান আল্লাহতায়ালার নিকট তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

বক্তারা আরো বলেন, ১৯৭৮ সালের ২৬ আগস্ট মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের (মুসপ) জন্ম। জেনারেল জিয়ার সামরিক শাসনামলে মাহফুজুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান ছিলেন। সে সময় তাঁরা ইতিহাস বিকৃতি শুরু করেন। শেখ মুজিব জাতীয় বেইমান, মাহফুজের এমন ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিবাদে মুখর হন। আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত কর্নেল (অব.) শওকত আলীর নেতৃত্বে প্রতিবাদী মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের নিয়ে গঠিত হয় মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ (মুসপ)।বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আওয়ামী লীগের একটি বিরাট অংশ যখন জয় বাংলা বলতে দ্বিধা বোধ করত, এমনকি ভয় পেত তখন কর্নেল (অব.) শওকত আলীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ (মুসপ) রাজনৈতিক মাঠে সোচ্চার ছিল জয় বাংলা স্লোগান নিয়ে; যদিও আজ বাস্তবে আমরা অসাম্প্রদায়িক মতাদর্শ থেকে দূরে সরে পড়ছি। ক্রমাগতভাবে বাহাত্তরের সংবিধান থেকে সরে গিয়ে সংবিধানে এরশাদ প্রবর্তিত রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম অক্ষুণ্ন রেখে এবং পর্যায়ক্রমে ক্ষমতাসীন দলে বঙ্গবন্ধুর মতাদর্শের তোয়াক্কা না করে পাকিস্তানি মতাদর্শের সেবাদাস-দাসীদের (জামায়াত-মুসলিম লীগ) সন্তানদের দলে শুধু আশ্রয় দিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছি না, তাদের বড় বড় পদ প্রদানও করে চলেছি; যা অদূর ভবিষ্যতে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধুর মতাদর্শের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে বির্তকিত করে তুলবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা জাতি হিসেবে এটি অশনিসংকেত বলেই মনে হয়। অথচ স্বাভাবিকভাবেই আওয়ামী লীগের কাছেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের মানুষের প্রত্যাশা বরাবরই বেশি। তাই জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি ফিরে পায়, সব সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপত্তাহীনতার বেড়াজাল থেকে মুক্তি পায়। পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগ পরাজিত হলে আপামর জনগণ পরাজিত হয়, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত চেতনা ও মূল্যবোধও পরাস্ত হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই জাতির জনক ও তাঁর পরিবারের হত্যার বিচার, একাত্তরের ঘাতক-দালাল, শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বহুলাংশে সফল হয়েছে। অন্য কোনো দলীয় সরকারের মাধ্যমে এই প্রত্যাশা কখনো পূরণ হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ তারাই ছিল একাত্তরের ঘাতক-দালালদের প্রশ্রয়দাতা ও আদর্শিক বন্ধু।

বক্তারা বলেন, মুক্তিসংগ্রাম চলছে, চলবে-এই স্লোগান নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ এগিয়ে চলেছে। মুসপের জন্মলগ্ন থেকে এর অর্জন অনেকের কাছেই দৃশ্যমান বলে আমরা গর্ব বোধ করি। আমরা বিশ্বাস করি, ভৌগোলিক স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হলেও আমাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন আজও সম্ভব হয়নি। আমরা যেমন সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সজাগ, তেমনি আশাবাদী হতে চাই সম্ভাবনা নিয়ে। কণ্টকাকীর্ণ পথেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। মুসপের লক্ষ্য-কর্মসূচি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির মূলোৎপাটন করে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহত করা তথা মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাপক্ষের আদর্শিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা।

অনুষ্ঠানের বক্তাগন তাঁদের বক্তব্যে জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে একটি তদন্ত কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শেয়ার করুন
More News Of This Category

Dairy and pen distribution

ডিজাইনঃ নাগরিক আইটি ডটকম
themesba-lates1749691102