বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ১২:১০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ইষ্টার্ণ প্লাজায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে করলেন বিশ্ব মানবাধিকার ভিশন ঢাকা বিভাগ শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক ৪১তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ ফারাক্কা লংমার্চ জাতির চেতনাকে শাণিত করে : বাংলাদেশ ন্যাপ রাজধানী মোহাম্মদপুর প্রাইম হাসপাতালে ইলিজারভ পদ্ধতিতে ভাঙ্গা হাটুর সফল অস্ত্রোপচার হচ্ছে বিএনপি-জামাত নির্বাচনে যাবেন না, হতেও দিবেন না, পরের কথাটা কি ? তাও বলতে পারলেন না তথাকথিত ‘গণকমিশন’ ইসলাম ও আলেম উলামাদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করছে: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বর্ধিত সভার বিজ্ঞপ্তিঃ ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ পর্ব ৮০: “যে ইতিহাসটি বলা দরকার” : এডভোকেট খোন্দকার সামসুল হক রেজা যুদ্ধ কারো কাম্ম না হলেও একটি যুদ্ধের প্রয়োজন ছিলো, বিশ্ব ক্ষমতার ভারসাম্ম্যের জন্যে দেশে সাংবিধানিক স্বৈরশাসন চলছে: গোলাম মোহাম্মদ কাদের

ঈদের জন্য অর্থনীতি ব্যয়ঃ মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেট টাইম সোমবার, ২ মে, ২০২২
  • ২৩ দেখা হয়েছে

লেখক- মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী: আসিতেছে ঈদ, শিশুরা খুশিতে আত্মহারা, যুবক কিংবা মুরিব্বি, সব বয়সের মানুষের ভিতরে আন্দনদের ডেউ লেগেছে। ঈদ উপলক্ষে শহর থেকে গ্রামে আসতেছে মানুষ, মহাসড়ক গুলো খুব ব্যস্ত। রিক্সাচালাক সিএনজি চালক ও বাসের চালক সবাই ব্যস্ততার মধ্যে আছে। সবজি ব্যবসায়ী মাছ ব্যবসায়ী মাংস ব্যবসায়ী ও কাপড় সবাই খুব ব্যস্ততার মধ্যে দিন কাটতেছে৷ বিকাশ দোকান ও ব্যংকগুলো খুব ব্যস্ততার মধ্যে আছে, কারণ শহর অথবা বিদেশ থেকে প্রচুর মুদ্রা আসতেছে, সারাদিন লেনদেন চলতেছে৷ ঈদ উপলক্ষে বাড়িঘর ও দালান কোটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কাজ চলতেছে ও মসজিদের বাহিরে ভিতরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ চলতেছে৷ মানুষেরা শারিরিক পরিষ্কার ও কাপড় চোপড় পরিষ্কার করতেছে ৷ কাপড় দোকান গুলোতে মানুষের ডল নেমেছে। শিশুরা বলতেছে আম্মু ঈদ আসতেছে জামা কিনে দাও জুতা কিনে দাও, আম্মু বলতেছে চল বাজারে। পিতা মাতারা শিশুদের নিয়ে বাজারে যাচ্ছে ঈদের কেনা কাটা করার জন্য, নারীরাও সারাদিন বাজারে যাচ্ছে ঈদের মার্কেট করার জন্য, সব বয়সের মানুষের ঈদের কেনা কাটা নিয়ে ব্যস্ত ৷ আসলে সব কিছুর সাথে মূলত অর্থনীতির সম্পর্ক, অর্থনীতি ছাড়া কেনাকাটা হয় না৷ ইসলাম অর্থনীতি নিয়ে অনেক সুন্দর সাজেশন দিয়েছে৷ ‘আল্লাহ ব্যবসা হালাল করেছেন ও সুদকে হারাম করেছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত-২৭৫) ব্যবসার মাধ্যমে অর্থনীতিভাবে আমরা উন্নত হয়েছে, বহু মানুষ ব্যবসা করে তাঁদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। ব্যবসা আমাদের প্রিয় নবীজী করছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সায়েব (রা.) বলেন, আমি জাহেলিয়াতের যুগে নবীজির ব্যবসার শেয়ার ছিলাম। আমি যখন মদিনায় গেলাম তখন নবীজি (সা.) বললেন, আমাকে চিন? বললাম, কেন চিনব না? আপনি তো আমার অনেক ভালো ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। না কোনো অঙ্গীকার ভঙ্গ করতেন, না কোনো কিছুতে ঝগড়া করতেন!’ (খাসায়েসে কুবরা, উসদুল গাবাহ) অনেক ব্যবসায়ীরা সারা বছর থেকে সবচেয়ে বেশী লাভবান হয় ঈদের বিক্রিতে । সৎ ব্যবসায়ীর শান-মর্যাদা বর্ণনা করে হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘সত্যবাদী আমানতদার ও বিশ্বাসী ব্যক্তি কিয়ামতের দিনে নবীগণ সিদ্দিকগণ এবং শহীদগণের দলে থাকবেন।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস-১২০৯) সৎ ব্যবসায়ীরা দুনিয়াতেও লাভবান হয় ও পরকালেও লাভবান হয় । এই ঈদ উপলক্ষে অনেক শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছে ও ঈদের ব্যবসা দিয়ে অর্থনীতিতে তাঁরা এগিয়ে যাচ্ছে৷ আমাদের কে ঈদে অর্থনীতি ব্যয় করতে হবে, সমাজের বহু মানুষ অর্থনীতিভাবে খুব উন্নত আবার সমাজে বহু মানুষ অর্থনীতিভাবে দুর্বল। পৃথিবীর সব মানুষ অর্থনীতিভাবে সমান না, এই জন্য আল্লাহ তায়ালা অর্থনীতি ব্যবহার করার সাজেশন দিয়েছেন, অর্থাৎ যারা অর্থনীতি ভাবে দুর্বল তাঁরা অর্থনীতি ভাবে উন্নত হয়ে যাবে। এই ঈদ উপলক্ষে আমরা অর্থনীতি ব্যয় করতেছে, কিন্তু অনেকে অর্থনীতি ব্যয় করতে পারতেছে না কারণ তাঁরা অর্থনীতি ভাবে দুর্বল। এই ঈদের জন্য আমরা অর্থ ব্যয় করে কেটা কাটা করতেছে পোষাক কিনতেছি বাজার করতেছি, কিন্তু যারা অর্থনীতিভাবে দুর্বল তাঁরা তো কোন ব্যয় করতে পারতেছে না, আসুন আমরা তাঁদেরকে অর্থনীতিভাবে সহযোগিতা করবো ও তাঁদের জন্য অর্থনীতি ব্যয় করবো৷ আল্লাহ বলেন, এবং তোমরা মানুষেে সম্পদ বৃদ্ধির জন্য যে বৃদ্ধি (সুদ) প্রদান কর তা আল্লাহর নিকট বৃদ্ধি পায় না৷ আর আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তোমরা যে যাকাত প্রদান কর সেই যাকাতই হল বহুগুণ বৃদ্ধিকারী৷ ( সূরা রূম, আয়াত ৩৯) আমাদের প্রতিবেশী গরিব মিসকীর এতিম তাঁদেরকে যাকাতের টাকা দিয়ে যদি অর্থনীতিভাবে সহযোগিতা করা যায় তাহলে তাঁরা অনেক উন্নত হয়ে যাবে। সমাজের অনেক মানুষ অর্থনীতি অভাবে ঈদের কেনা কাটা করতে পারতেছে না, কাপড় চোপড় কিনতে পারতেছে না, বাজার করতে পারতেছে না, আমরা তাঁদের কে যদি যাকাতের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করি তাহলে তাঁরা ঈদের কিনা কাটা করতে পারবে কাপড় চোপড় কিনতে পারবে ও ঈদের দিন তাঁদের মুখে হাসি ফুটবে৷ আর যাকাতের টাকা দিয়ে যারা অর্থনৈতিক সহযোগিতা করে অবশ্য আল্লাহ তাঁদের সম্পদ বহুগুণ বাড়িয়ে দিবে সুবাহানাল্লাহ৷ আল্লাহ বলেন, হে মুমিনগণ, তোমরা তোমাদের পবিত্র উপার্জন থেকে খরচ কর (যাকাত প্রদান কর) এবং আমি তোমাদের জন্য ভূমি থেকে যা বের করেছি তা থেকে (যাকাত প্রদান কর) (সূরা বাকারা, আয়াত-২৬৭) আল্লাহ বলেন, যাকাত হল কেবল ফকির, মিসকীন, যাকাত আদায় কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদে হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্যে-ঋণ গ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে, এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সূরা তাওবা, আয়াত-৬০) যেমন এই সমাজে অনেক এতিম পরিবার আছে, আমরা তাঁদেরকে যাকাতের টাকা দিয়ে যদি অনেকগুলো গাভী কিনে দি, তাহলে তাঁরা অর্থনীতিভাবে উন্নত হবে এবং ঈদে তাঁরা আনন্দ খুশিতে থাকবে৷ আমরা যাকাতের টাকা দিয়ে যদি এতিমদের কে বাজার খাদ্য কাপড় চোপড় কিনে দি তাহলে ঈদের দিনে আনন্দ করবে৷ আমাদের সমাজে অনেক গরিব পরিবার রয়েছে, আমরা তাঁদেরকে যাকাতের টাকা দিয়ে যদি রিক্সা কিনে দি অথবা কোন কর্মসংস্থান করে দি, তাহলে তাঁরা অর্থনৈতিক ভাবে অনেক উন্নত হব ও ঈদের দিনে তাঁদের পরিবারের ভিতরে হাসি উঠবে। আমরা যাকাতের টাকা দিয়ে যদি গরীব ছাত্রদের পড়াশুনার খরচ দিন, তাহলে তাঁরা একদিন অর্থনৈতিক ভাবে অনেক উন্নত হবে ও পরিবার উন্নত হবে ঈদের দিন তাঁদের পরিবারের মুখে হাসি উঠবে৷ আমরা যাকাতের টাকা দিয়ে যদি গরিব কুরআনের হাফেজদের কে সহযোগিতা করি তাহলে তাঁরা সারাজীবন আমাদের জন্য দোয়া করবে, আমরা অর্থনৈতিক ভাবে আরো উন্নত হয়ে যাবো সমাজের অনেক গরিব বেকার আছে আমরা তাঁদেরকে যদি যাকাতের টাকা দিয়ে বিদেশে পাঠাই, তাহলে তাঁরা অর্থনৈতিক ভাবে অনেক উন্নত হয়ে যাবে এবং তাঁদের পরিবার সমাজ অনেক উন্নত হয়ে যাবে, দেশও উন্নত হবে৷ আমরা যাকাতের টাকা দিয়ে যদি গরিবদেরকে ব্যবসা করার সুযোগ দি তাহলে তাঁরা অর্থনৈতিক ভাবে অনেক উন্নত হয়ে যাবে। আল্লাহ তায়ালা এমন ভাবে সাজেশন দিয়েছে, আমরা যাকাতের টাকা দিয়ে যদি সঠিকভাবে কাজে লাগাই তাহল সমাজের কোন গরীব থাকবে না, এতিম গরিব মিসকিন সবাই উন্নত হয়ে যাবে অর্থনৈতিক ভাবে সমাজ এগিয়ে যাবে এবং ঈদের অর্থনীতি লেনদেন আরো বেঁড়ে যাবে৷ আল্লাহ বলেন, এবং যারা সালাত আদায় করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে আমি তাদেরকে মহাপুরস্কার দিব। (সূরা নিসা, আয়াত-১৬২) আমরা ফিতরা দিয়ে যদি গরিব মিসকিন এতিমদের কে সহযোগিতা করি তাঁহলে তাঁরা অর্থনৈতিক ভাবে অনেক উন্নত হবে এবং তাঁরা ভালবাবে ঈদ করতে পারবে। প্রিয় নবীজী (সাঃ) বলেন, যাকাতুল ফিতর ফরয করেছেন, যেন সিয়াম পালনকারী বাজে কথা, অশ্লীল কথা (ইত্যাদি ছোটখাট অপরাধ) থেকে পবিত্রতা লাভ করে এবং দরিদ্র মানুষেরা যেন খাদ্য লাভ করে। যে ব্যক্তি সালাতুল ঈদের আগে তা আদায় করবে তাঁর জন্য তা কবুলকৃত যাকাত বলে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি সালাতুল ঈদের পরে তা আদায় করবে, তাঁর জন্য তা একটি সাধারণ দান বলে গণ্য হবে৷ ( আবু দাউদ, আস সুনান ২/১১১, ইবনু মাজাহ, আস- সুনান ১/৫৮৫) আমাদের অনেক প্রতিবেশী এবং আত্মীয় স্বজন রয়েছে যারা অনেক কষ্টের মধ্যে আছে, তাঁরা অর্থ এর অভাবে ঈদের জন্য কোন কিছু কিনতে পারে নাই, আমরা তাঁদেরকে অর্থনৈতিক ভাবে সহযোগিতা করবো ও দান সদকাহ করবো৷ তাহলে তাঁরা ভালবাবে ঈদ করতে পারবে৷ আল্লাহ বলেন, আমি তোমাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে খরচ করো তোমাদের কারো মৃত্যু আসার আগেই। অন্যথায় অনুতাপ অনুশোচনা করে বলতে হবে, হে আল্লাহ আমাকে যদি অল্প কিছু সময় দিতে, তাহলে আমি দান খয়রাত করতাম এবং নেক লোকদের একজন হতাম। কারও মৃত্যুর নির্ধারিত সময় আসার পর আল্লাহ কাউকে অবকাশ দেবেন না। আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পর্কে ভালভাবে ওয়াকেফহাল।’ (সূরা মুনাফিকুন, আয়াত১০-১১) আল্লাহ আরো বলেন, খরচ কর আল্লাহর পথে, নিজের হাতে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না। উত্তমরূপে নেক কাজে আঞ্জাম দাও। এভাবে যারা নেক কাজে উত্তমরূপে আঞ্জাম দিতে যত্নবান আল্লাহ তাদের অবশ্যই ভালবাসেন। (সূরা বাকারা, আয়াত-১৯৫) অন্য একটি আয়াতে আল্লাহ বলেন, যারা আল্লাহর পথে তাদের মাল খরচ করে তাদের এই খরচকে এমন একটি দানার সঙ্গে তুলনা করা চলে যা জমিনে বপন বা রোপণ করার পর তা থেকে সাতটি ছড়া জন্মে এবং প্রতিটি ছড়ায় একশতটি করে দানা থাকে। এভাবে আল্লাহ যাকে চান বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন। আল্লাহ সুবিশাল ও মহাজ্ঞানী। (সূরা বাকারা, আয়াত-২৬১) আমরা সমাজে অনেকে আছে তাঁরা অর্থনৈতিক ভাবে অনেক অনেক উন্নত ও অনেক সম্পদশালী, কিন্তু তাঁরা দান করে না৷ যাদের অর্থনৈতিক অনেক ভাল এবং সকল শিল্পপতিরা যদি ভালভাবে দান সদকাহ করে তাহলে দেশে সমাজে কোন অভাবী থাকে না কোন গরীব থাকে না৷ আসতেছে ঈদ, শিল্পপতিরা যদি সকল গরিব মিসকিন এতিমদের অর্থনীতিভাবে সহযোগিতা করে তাহলে তাঁরা ঈদে সেই অর্থ ব্যয় করে একটু খুশিতে থাকতে পারবে। সমাজের শিল্পপতিদের চিন্তা ভাবনা করা উচিত, এই অর্থ ধন সম্পদ কবরে যাবে না, তাহলে আমরা অর্থনীতি ভাবে গরিব মিসকিন এতিমদের জন্য বিনিয়োগ করবো শুধু মাত্র আল্লাহকে খুশি করার জন্য, আর আল্লাহ কে খুশি করতে পারলে তো পরকালে শান্তি আসবে৷ শিল্পপতিদের চিন্তা দ্বারা যদি এমন হয় তাহলে গরিব মিসকিন এতিমরা উন্নত হয়ে যাবে। এবং তাঁরা ঈদের প্রচুর অর্থনীতি ব্যয় করে ভালবাবে ঈদ কাটবে ও পরিবার সমাজ দেশ অনেক উন্নত হয়ে যাবে। লেখকঃ আলেম ও ইসলাম বিষয়ক গবেষক৷

শেয়ার করুন

এই ধরনের আরও খবর...

Dairy and pen distribution

themesba-lates1749691102