May 24, 2024, 11:02 pm
শিরোনামঃ
শৈলকুপার এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা এমন যদি হতোঃ কবি মোঃ খোকন খান ইন্টারন্যাশনাল আইকনিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডে মনোনীত ডেইজী সারোয়ার জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফোরামের কমিটি গঠন সাংবাদিককে হেনস্থাকারী ছাত্রলীগ নেতার বিচার চায় বিডিজেএ ঘটনার সময় বাংলাদেশে ছিলাম, আমাকে ফাঁসানো হয়েছে : আক্তারুজ্জামান শাহীন বাবাকে নিয়ে এমপি আনারের মেয়ে ডরিন আবেগঘন স্ট্যাটাস বাবার হত্যার বিচারে চাইলেন মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন মৎস্যজীবী লীগের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিখোঁজ ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের ‘লাশ’ কলকাতা থেকে উদ্ধার

আমার দেখা উত্তাল রক্ত ঝরা মার্চঃ আঃ রহমান শাহ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : Thursday, March 3, 2022
  • 323 Time View

এস এস সি পরীক্ষা শেষে ঢাকায় মামার বাসায় বেড়াতে এসেছি, রেজাল্ট বের হলে কলেজে ভর্তি হবো। ঢাকায় এসেই দেখি তুমুল আন্দোলন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্তে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলেও নির্বাচিত সংসদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে নানা রকম তাল বাহানা চলছে। পশ্চিম পাকিস্তানের নেতাদের, মুসলিম লীগ, জামাতের কু মন্ত্রনা, পূর্ব পাকিস্তানে ভুট্টুর সংসদে না বসার হুমকি, এহিয়া খানের আলোচনা বৈঠক চলছে, ছাত্র, শ্রমিক, যুবকদের মিছিল, আন্দোলন, ঢাকা, খুলনায় শ্রমিকের মিছিলে গুলি, একদিকে আলোচনা, আরেকদিকে মিছিলে গুলি, অন্যদিকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানে অস্ত্র মজুদ বৃদ্ধি করা। তৃমুখী ঝামেলার মধ্যে পড়ে গেলাম। এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চে রেসকোর্স ময়দানে ভাষন দিবেন, গ্রামগঞ্জ, জেলা শহর থেকে আসা লোকজনে ঢাকা কানায় কানায় পরিপূর্ণ। ৭ই মার্চ সকাল থেকে টঙ্গী, নারায়ন গঞ্জ, আদমজি, মুন্সী গজ, গাজীপুর, কুমিল্লা থেকে বাস, ট্রাক, রেল ভরে লক্ষ লক্ষ লোক রেসকোর্স মূখী, মাঠে তিল ধরানোর ঠাঁই নাই, জনতার ঢল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, চাঁনখার পুল, রমনা পার্ক, শাহবাগ, বাংলা মটর, এয়ারপোর্ট রোড, কোথাও তিল ঠাঁই নাই। মাঠের উত্তর দিকে বিরাট মঞ্চ, ছাত্র নেতারা বক্তৃতা করছেন, জনতা শ্লোগান দিচ্ছে। প্রায় ৫/৬ লক্ষ লোক মাঠে আর ৫/৬ লক্ষ মাঠের বাহিরে। সবাই উদগ্রীব, উৎকন্ঠিত কি নির্দেশনা দিবেন নেতা, কি হবে ভবিষ্যত। এরি মাঝে বিকাল প্রায় ৪টার কাছাকাছি সময় মাঠে এলেন বঙ্গবন্ধু, মুহুর্মুহু শ্লোগান, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। তার পর সেই ১৮ মিনিটের ঐতিহাসিক ভাষন। ভাইয়েরা আমার…,. আর যদি একটা গুলি চলে আর যদি আমর লোকদের হত্যা করা হয় তা হলে তোমাদের যার যা আছে তাই দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলো, এবারের সংগ্রাম আমার মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা। বক্তৃতার মাঝে মাঝে জনতার হাত তালি আর শ্লোগান, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
আমি তখন পরিবাগ ওয়াপদা কলোনীতে থাকি, দুপুরের খাবার খেয়ে আমরা কলোনীর লোকজন আগেভাগে মাঠে, মঞ্চের সামনে বাঁশের ঘেরার কাছে বশলাম।
অন্যদিকে ৭ই মার্চের বক্তৃতার পর কার্যত প্রশাসন পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে চলে আসলো, বঙ্গবন্ধুর নির্দশেই চলত অফিস, আদালত, কোর্ট, কাঁচারি। পাকিস্তানের প্রশাসন ভেঙ্গে পড়লো।
পল্টনে, ছাত্র লীগ, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা আন্দোলনে জনসভা, আওয়ামী লীগের ৬ দফা বাস্তবায়নের দাবী একের পর এক ঢাকার রাজ পথ উত্তপ্ত, ভাষানী ন্যাপের মিটিং করে ফেরার পথে মোনেম খানের প্রাদেশিক মন্ত্রী সভার কয়েকজন মন্ত্রীর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিলো উত্তপ্ত জনতা। এদিকে ছাত্র, যুবকরা গোপনে গোপনে ট্রেনিং দিতে শুরু করলো ২২ সে মার্চ কলা ভবনে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন, পল্টনে ছাত্রলীগের জনসভায় স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ। ২৩ তারিখ থেকেই অবরোধ আন্দোলন শুরু হয়ে যায়।
২০ তারিখে মামাএকটি ফিলিপস রেডিও কিনে আনেন, আমাদেরকে বলেন ঢাকায় যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। আমারা ২১ তারিখ পরিবার পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়ি, ভান্ডারিয়া, বরিশাল চলে যাই। সেখান থেকে আর এক মামার পরিবার পরিজন বাড়িতে ফেরত আনার জন্য খুলনায় চলে যাই, খুলনায় ও পুলিশের গুলিতে শ্রমিক মারা গিয়েছে সেখানেও আন্দোলন, মশাল মিছিল, সংগ্রামে উত্তাল। রাতে কারফিউ, ধরপাকরের মধ্যে ২টি আতঙ্কিত রাত অতিবাহিত হয়। বাসার মেয়েদেরকে লঞ্চে পাঠিয়ে দিয়ে শত উৎকন্ঠা, উদ্বেগের মধ্যে আমরা বড়ো একটা নৌকা যোগে মালামাল নিয়ে বাড়ীর পথে রওয়ানা হই। আমাদের যাওয়ার পথে বাগের হাট পার হয়ে পিরোজপুরের কাছাকাছি যেতেই ২৬ সে মার্চে খুলনায় নৌ বাহিনীর কামানের গোলার আওয়াজ শোনা যায়। বাড়িতে গিয়ে দেখি যুদ্ধের জন্য ছাত্র, যুবক, আওয়ামী লীগের কর্মীরা ছুটিতে থাকা সেনা ও আনছার বাহিনীর সদস্যদের নেতৃত্বে প্রতিরোধ ও অস্ত্র প্রশিক্ষন শুরু করে দিয়েছে। ২৫ তারিখে রাতে ঢাকা শহরে পাকবাহিনীর অপারেশন সার্চ লাইট, রাজারবাগ পুলিশ লাইনে, পিলখানায় ঘুমন্ত পুলিশ বিডিআর হত্য, জেলা শহরে পুলিশ, বিডিআর, সেনা ছাউনিতে আন আর্মড করার চেষ্টায় বেঁচে থাকা সকল বাঙ্গালী আনসার, পুলিশ, বিডিআর, সেনা সদস্যরা জনতার সাথে মিসে গেলো, তেজগাঁও রেল গেট থেকে ফুল বাড়িয়া রেল লাইন বস্তিতে ম্যাসাকার, রাতে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা, রাত ১.৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতা, রাজারবাগে পুলিশ হত্যা, পিলখানায় ইপিআর হত্যা ও প্রতিরোধের খবর বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকা, আকাশ বানীর মাধ্যমে জানতে পারি। ২৭ তারিখ সকালে পোস্ট অফিসে ঢাকা থেকে একটা টেলিগ্রাম বার্তায় ঢাকা চট্টগ্রামে প্রতিরোধ যুদ্ধের খবর নিশ্চত হই। বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা, আকাশ বানীর খবর এবং দোতলায় টিনের চালের উপর তারের এন্টেনা লাগিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতর কেন্দ্রের ঘোষণা, বিবৃতি সুনতে সবাই জড়ো হত থাকে বাড়ির আঙ্গিনয়। বাজারে চা দোকানে যুদ্ধের আলাপ, এমনি উদবেগ উৎকন্ঠায় কাটলো ভয়াল মার্চের দিন গুলো।

লেখকঃ রাজধানী মোহাম্মদপুর থানার ৩১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও খাস খবর বাংলাদেশ পত্রিকার উপদেষ্টা জনাব আঃ রহমান শাহ্।

শেয়ার করুন
More News Of This Category

Dairy and pen distribution

ডিজাইনঃ নাগরিক আইটি ডটকম
themesba-lates1749691102